kalerkantho


রংপুরে হিমঘরের ফ্রিজ বিকল দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে লাশ

রংপুর অফিস   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রংপুরে হিমঘরের ফ্রিজ বিকল দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে লাশ

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরের ফ্রিজ আবারও বিকল হয়ে পড়ায় সেখানে রাখা লাশগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কয়েকটি লাশ আর শনাক্তই করা যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত ডোম মানু জানান, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হিমঘরের তিনটি ফ্রিজের সবটিই বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে ফ্রিজে রাখা ১০টি লাশে পচন ধরেছে। এর মধ্যে চারটি লাশ ওই হিমঘরে রয়েছে দুই থেকে চার বছর ধরে। তা ছাড়া আগেও একাধিকবার বিকল হয়ে পড়েছিল হিমঘরের ফ্রিজগুলো। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা লাশগুলো এখন কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। এগুলো শনাক্ত করারও কোনো উপায় নেই। এদিকে হিমঘরে লাশ চার বছর ধরে পড়ে থাকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নীলফামারীর নীপা নামের এক নারী বিষপানে আত্মহত্যা করেন। তিনি হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর বিয়ে করেন। কিন্তু মেয়েটির পরিবার এ বিয়ে মেনে না নিয়ে আদালতে মামলা করে। সেই মামলা এখনো বিচারাধীন। নীপার আত্মহত্যার পর তাঁর লাশ নিতে স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে পৃথক আবেদন করা হয়। তবে লাশটি কারা গ্রহণ করবে, সে সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় চার বছর ধরে লাশটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে। এ ছাড়া ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির। একই বছরের ৫ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো দুই অজ্ঞাতপরিচয় নারী। নীপার পাশাপাশি ওই তিনটি লাশও পড়ে রয়েছে হিমঘরের ফ্রিজে। দীর্ঘ সময়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশগুলো দাফনের পদক্ষেপ নেয়নি।

এর বাইরে বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে আরো ছয়টি লাশ। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের রোস্তম আলীর মেয়ে আরজিনা বেগম সপ্তাহখানেক আগে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বজনরা নিতে না আসায় আরজিনার লাশের ঠিকানা হয়েছে হিমঘর।

হিমঘরের কর্মচারী জয়নাল আবেদীন বলেন, চারটি লাশ অনেক দিন ধরে পড়ে আছে। সম্প্রতি যোগ হয়েছে আরো ছয়টি লাশ। ফ্রিজ নষ্ট হওয়ায় বাধ্য হয়ে লাশগুলো বের করে ঘরের মেঝেতে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, লাশের দুর্গন্ধের কারণে হিমঘরে যাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও বিকল হওয়া ফ্রিজগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

চার বছর ধরে নীপার লাশ হিমঘরে পড়ে থাকার ব্যাপারে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের আহ্বায়ক আইনজীবী এম এ বাশার বলেন, দুই থেকে চার বছর ধরে লাশ হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে থাকা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হিমঘরের ফ্রিজ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা চারটি লাশের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।


মন্তব্য