kalerkantho


মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের অগ্রগতি জানল মন্ত্রিসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের অগ্রগতি জানল মন্ত্রিসভা

বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ করার জন্য যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে একজন সিনিয়র মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে জানান, মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার ঝুঁকি, সম্ভাবনাসহ প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে এবং তাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াটা হবে সরকারের অনেক বড় অর্জন।

বৈঠকে একজন সিনিয়র মন্ত্রী গণমাধ্যমে প্রকাশিত মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি অর্কষণ করেন। তিনি জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে মধ্যম আয়ের দেশ হলে ১৮ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি কমে যাবে। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এখন ঝুঁকি নিয়ে সমালোচনা করছে, আমরা এই জায়গায় পৌঁছাতে না পারলে তারাই আবার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠবে। তারা বলবে সরকার পারল না, সরকার ব্যর্থ। তারা বলবে সরকারের অক্ষমতার কারণে হয়নি। এই অর্জন আমাদের জন্য একটা বড় গর্বের বিষয়। এটা একটা বিরাট সফলতা। এটা সমালোচকরা দেখবে না।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ হলে অনেক দেশই বিনিয়োগ করতে আসবে। আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করছি, আমাদের সক্ষমতার কারণে এখন বিশ্বব্যাংক ও এডিবি আরো বেশি ঋণ দিতে চায়। আমরা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল, এটা মনে করে অনেকেই বিনিয়োগ করতে আসবে। বিনিয়োগ বাড়বে সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানিও বাড়বে। রপ্তানি কমবে না।’

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) এন এম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের জানান, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় তিন সূচকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে ওই তিন সূচকে যে মান অর্জন করতে হয়, তার সবকয়টিতে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। আগামী মার্চেই এই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রথম পর্যায়ের সুপারিশ করবে বাংলাদেশ।

মন্ত্রিপরিষদসচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) আরো জানান, সাধারণত তিনটি সূচককে কেন্দ্র করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা নির্ধারণ করা হয়। তিন সূচক হলো মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা। তিনটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

জিয়াউল আলম বলেন, মাথাপিছু আয়ের সূচকের মান হলো এক হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) হিসাব অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন হচ্ছে এক হাজার ২৭২ মার্কিন ডলার। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, এই আয় এক হাজার ২৭১ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকের মান ৬৬ বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সিপিডির তথ্য অনুসারে ৭২ দশমিক ৮ এবং বিবিএসের হিসাবে ৭২ দশমিক ৯।

সর্বশেষ সূচক অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার ক্ষেত্রে মান হচ্ছে ৩২ বা তার কম। সিপিডির হিসাব অনুসারে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২৫ এবং বিবিএসের হিসাব অনুসারে ২৪ দশমিক ৮।

মন্ত্রিপরিষদসচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) জানান, সভায় মন্ত্রিসভার ত্রৈমাসিক সিদ্ধান্তের অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আটটি বৈঠকে ৬৮টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৫৩টি। বাস্তবায়নের হার ৭৭.৯৪ শতাংশ। বাস্তবায়নাধীন আছে ১৫টি। শতাংশের হিসাবে যা ২২ দশমিক ০৬।

এ সময় মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি নীতি বা কর্মকৌশল এবং ৮টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে তিনটি।

মন্ত্রী-সচিবরা পেলেন শীতলপাটি : শীতলপাটির বয়নপদ্ধতি ইউনেসকোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়ায় মন্ত্রিসভার সদস্য এবং মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থিত সচিবদের একটি করে শীতলপাটি দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ২৬ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের ১৮২টি সদস্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরাপদ বাণিজ্য পরিবেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হবে।



মন্তব্য