kalerkantho


আলোচনাসভায় বিএনপি নেতারা

খালেদাকে বাইরে রেখে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা। গতকাল রবিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পৃথক অনুষ্ঠানে তাঁরা এ মন্তব্য করেন।

বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সেমিনার হলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আলোচনাসভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের নেত্রীকে সপ্তাহে তিন দিন কোর্টের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করতে হচ্ছে। আমাদের নেতারা বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত। ষড়যন্ত্র চলছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে বাইরে রাখার। আবারও ২০১৪ সালের মতো একটি নাটক করার।’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী সংসদ নির্বাচন আমরা এমন একটি পরিবেশের মধ্যে করব, যেখানে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার থাকবে। এই সরকারের ইচ্ছায় কোনো ভোট হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আজকের যে আওয়ামী লীগ তার অস্তিত্ব ছিল না। আওয়ামী লীগসহ সব দলকে জিয়াউর রহমান জীবন দান করেছেন।’

জাসাসের সভাপতি ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শিল্পী বেবী নাজনীন প্রমুখ।

এদিকে গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে কারাবন্দি সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীর মুক্তির দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করি আনুষ্ঠানিকভাবে। কখন নির্বাচন হবে আমরা জানি না কেউ। এখনো ১০ মাস বাকি আছে। ১০ মাস আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রচারাভিযান করবেন আমাদের বন্দি রেখে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি দলকে বলা, এখন নির্বাচনী প্রচারণাভিযানে যাবে না। আর যদি না বলেন, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দুর্বল কমিশন দিয়ে আগামী দিনে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভবপর হবে না।’

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের পত্রিকায় এসেছে, প্রধানমন্ত্রী নামছেন নির্বাচনী প্রচারে। ৩০ জানুয়ারি হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত ও সিলেটে সমাবেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী সফর শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এই সরকারের তল্পিবাহক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা কি দেখছেন না, টেলিভিশন দেখেন না, খবরের কাগজ পড়েন না? এখনই যদি আপনারা (ইসি) এটা অ্যালাউ করেন, তাহলে নির্বাচনের সময় কী হবে আপনারা চিন্তা করে দেখেন।’



মন্তব্য