kalerkantho


ওবায়দুল কাদেরের আশ্বাসে শান্ত হলেন পদবঞ্চিত নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া কেন্দ্রীয় উপকমিটিগুলো অবৈধ। অফিস সেক্রেটারির স্বাক্ষরে খসড়া কমিটি পাঠানো হয়েছিল, তা ফাঁস হয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নিয়ম মেনে যে কমিটি চূড়ান্ত করা হবেন, তাতে অনেকে যোগ হবে অনেকে বাদ পড়বেন। গতকাল রবিবার রাতে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগের উপকমিটির তালিকা প্রকাশ পেলে তা নিয়ে গত কয়েক দিন যাবৎ প্রতিক্রিয়া চলছিল। এমনকি সরাসরি অভিযোগ জানাতে শনিবার রাতে ধানমণ্ডিতে জড়ো হন ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতা। প্রকাশিত কমিটি বাতিলের দাবি জানান তাঁরা। একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের তাঁদের আশ্বস্ত করেন এবং উপকমিটিতে সবাই সদস্য থাকবেন, কোনো সহসম্পাদক থাকবেন না বলে জানান।

দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল রাতে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ের সামনে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা ভিড় জমান। এ সময় ওবায়দুল কাদের সেখানে উপস্থিত হলে ছাত্রনেতারা ক্ষোভের কথা জানান। এরপর সভাকক্ষে বসে ওবায়দুল কাদের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এগুলো কোনো কমিটি না। এগুলো খসড়া করা হচ্ছিল। এখন নতুন করে যাচাই-বাছাই করে কমিটি ঘোষণা করা হবে। একটি কমিটিতেও আমার স্বাক্ষর নেই। তোমরা বোঝ না—এগুলো সব অবৈধ?’

এদিকে গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ শনিবার রাতে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সময় কোনো সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন না। তাহলে তাঁরা শুনে লিখেছেন। শুনে কেন লিখবেন? এটা তো বিক্ষোভ না, আনন্দ মিছিল করেছে। ফেসবুকে যা বেরিয়েছে তা নিয়ে জানতে গেছে। পরে খুশি হয়ে তারা আনন্দ মিছিল করেছে।’

উপকমিটি স্থগিতের প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘এখানে স্থগিত বা বাতিলের বিষয় নেই। আসলে এখানে সহসম্পাদক বিষয় নয়, বিষয়টা হলো সাব-কমিটি। ১৯ ডিপার্টমেন্টের সাব-কমিটি হবে, আগে দু-একটা বিভাগ ছাড়া সাব-কমিটি ছিল না। এবার সমস্যাটা কেন হয়েছে? যাদের উপকমিটিগুলো চূড়ান্ত হয়নি, সেই সম্পাদকদের কাছে অফিস সেক্রেটারির স্বাক্ষরে খসড়া কমিটি পাঠানো হয়েছিল। এটা প্রস্তাবিত বিষয়, এটা করতে গিয়ে সেটা চলে গেছে ফেসবুকে এবং ফেসবুকে যাওয়াতে বিভ্রান্তি হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কমিটি চূড়ান্ত হলে সভাপতি তাতে সায় দিলে তারপর সেখানে আমার সই নেওয়া হবে। সেই কমিটির আদেশ তখন সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে। আমি এক মাস আগে বলেছি, সব উপকমিটিতে সবাই সদস্য থাকবে। অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করতে তিন মাস সময় নিয়েছি। কিছু লোক আছে পোস্টার ব্যানার বানিয়ে অভিনন্দন এবং ফেসবুকে প্রচার করে। বিষয়টা দেখতে হবে। সহসম্পাদক পদ নিয়ে সিটিং এমপিদের এরা ডিস্টার্ব করে। এসব কারণে যাচাই-বাছাই পদ্ধতি বেছে নিয়েছি।’


মন্তব্য