kalerkantho


২২ বছরেও পরিমাপক যন্ত্র স্থাপিত হয়নি

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা রংপুরে নতুন করে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা। রংপুর বিভাগের আট জেলায় গত শনিবার সকাল ৭টা ১৯ মিনিটের দিকে অনুভূত এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। রিখটার স্কেলের পরিমাপ অনুযায়ী মৃদু তীব্রতার এ ভূকম্পনে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া না গেলেও বছরের প্রথম এ ভূমিকম্পে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকার প্রসঙ্গটি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভূতাত্ত্বিক কারণে রংপুর অঞ্চল এমনিতেই ভূমিকম্প-ঝুঁকিপ্রবণ। এর ওপর নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এই জনপদে নির্মিত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার বহুতল ভবন। এসব স্থাপনায় দুর্যোগ প্রতিরোধের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রংপুর। ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারি ভোরে দুই দফা ভূমিকম্প ও ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল দুপুরে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় ও খোলা মাঠে নেমে আসে লোকজন। এ ছাড়া একই বছরের ২৫ এপ্রিল ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছিল রংপুরে। ফাটল দেখা দেয় কয়েকটি ভবনে। কিন্তু এর পরও ভূমিকম্পের ভয়াবহতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রায় ২২ বছর আগে রংপুর অঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এর হাত থেকে রক্ষায় সচেতনতা কর্মসূচিও নেওয়া হয়নি। এমনকি আজ পর্যন্ত ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্র (রাডার) স্থাপন করা হয়নি।

রংপুর ও ঢাকা সিসমিক কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এ অঞ্চলে অন্তত ১০০ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে সবচেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল দুপুরে।

রংপুর সিসমিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে রংপুর। তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলে কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রংপুর বিভাগের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান শেখ বলেন, ‘ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি বহুতল ভবনে দুর্যোগ মোকাবেলার কোনো প্রস্তুতি নেই।’ ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মুমনুল ইসলাম বলেন, ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এখনই সচেতন না হলেও বড় খেসারত দিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রংপুর অঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ২২ বছর আগে। কিন্তু আজ পর্যন্ত স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরে ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সংশয় প্রকাশ করে বলেছে, দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় রংপুর অঞ্চলকে ভূমিকম্পের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করার পরও পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেওয়া পরিকল্পনাটি ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।



মন্তব্য