kalerkantho


চার দশক পূর্তি উপলক্ষে পদাতিকের আনন্দানুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চার দশক পূর্তি উপলক্ষে পদাতিকের আনন্দানুষ্ঠান

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা প্রাঙ্গণে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তিসহ নানা পরিবেশনায় মেতে উঠেছেন শিল্পীরা। তার আগে একাডেমি থেকে বের হয় এক আনন্দ শোভাযাত্রা। এর সবটাই পদাতিক নাট্য সংসদের পথচলার চার দশক পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে। গতকাল শনিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজন করা হয় এ আনন্দানুষ্ঠানের। এতে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবু মোহাম্মদ মুরতাইস কচির নামাঙ্কিত ‘কচি স্মৃতি স্মারক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা পেয়েছেন নাট্যজন আলী যাকের ও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী নার্গিস চৌধুরী।

জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী ও পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ গিয়াস। সভাপতিত্ব করেন দলপ্রধান সেলিম শামসুল হুদা চৌধুরী।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে পদাতিক নাট্য সংসদের বিভিন্ন নাটকের অংশবিশেষ নিয়ে কোলাজ পরিবেশন করা হয়। নাটকগুলোর মধ্যে ছিল ‘জলবালিকা’, ‘পোড়ামাটি’, ‘সে’, ‘সোজনবাদিয়ার ঘাট’ ইত্যাদি। এ ছাড়া উৎসব উপলক্ষে জাতীয় নাট্যশালার লবিতে প্রদর্শন করা হয় দলটির ৪০ বছরের নথিপত্র ও মঞ্চস্থ করা নাটকের ছবি।

‘নাটক হোক জীবন যুদ্ধের হাতিয়ার/নাটক হোক জীবনের প্রকাশিত সত্য’—এ প্রতিপাদ্যে ১৯৭৮ সাল থেকে পথচলা শুরু করে পদাতিক নাট্য সংসদ। নাটকের মধ্য দিয়ে শুধু বিনোদন নয়, সমাজবদলের স্বপ্ন দেখে তারা।

ঢাকা আনর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি : পর্দা নামল ষোড়শ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। ‘ভালো ছবি, ভালো দর্শক, সমৃদ্ধ সমাজ’—প্রতিপাদ্যে এ উৎসবের আয়োজন করে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি। ৯ দিনের এ উৎসবে বাংলাদেশসহ ৬৪ দেশের ২১৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় সমাপনী অনুষ্ঠানের। এতে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামান প্রমুখ। উৎসবের আহ্বায়ক অধ্যাপিকা কিশোয়ার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যসচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত ভিসেন্ট ভিভেনসিও তেজামো বেন্দিলো।

এবারের উৎসবে শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে বাদল রহমান পুরস্কার পেয়েছে ইরানের ‘হোয়াইট ব্রিজ’, দর্শক বিবেচনায় সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ভারতের ‘টোপি’। নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা বিভাগে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়ার ‘সোফিস্কা’, স্বল্পদৈর্ঘ্যে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘থ্যাংক ইউ ফর দ্য রেইন’, সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আফগানিস্তানের ‘পারলিকা’, কাহিনিচিত্রে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে ফ্রান্সের ‘লেস বিগোরনিয়াক্স’, শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র চেক প্রজাতন্ত্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘আনা’। শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম বিভাগে কাহিনিচিত্রে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘পুনঃপৌনিক’, শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র হয়েছে ইরাকের ‘দ্য ভায়োলেট’, প্রামাণ্যচিত্রে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে নেপালের ‘এ সঙ ফর বারপাক’ ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে যুক্তরাজ্যের ‘কন্টিনেন্টল ড্রিফট’।

বাংলাদেশ প্যানোরোমা বিভাগে চলচ্চিত্রবিষয়ক সংগঠন ফিপরেসির সৌজন্যে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হয়েছে লতা আহমেদের ‘সোহাগীর গয়না’ ও তৌকির আহমেদ ‘হালদা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়াশিয়ান কম্পিটিশন বিভাগে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হয়েছে তুরস্কের ‘জার’। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক হয়েছেন তুরস্কের অনুর সায়লাক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন ফিলিপাইনের অ্যানের ডিজোন, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়েছেন ইরানের পারিনাস ইজাডায়ার ও মিনা সাদাতি, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হয়েছেন ইরানের মাসুদ সালামি ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হয়েছেন তুরস্কের অনুর সায়লাক, ডগু ইয়াসার আকাল ও হাকান গান্ডে। স্পিরিচুয়াল ফিল্মস বিভাগে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হয়েছে রাশিয়ার ‘আমুন’, পূর্ণদৈর্ঘ্যে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে তাজিকিস্তানের ‘ব্রেক থ্রু’, শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার যৌথ প্রযোজনার ‘এখ : বিয়োন্ড দ্য সুনামি’ এবং সেরা কাহিনিচিত্র ইরানের ‘স্টিল ইয়েট’।

একসঙ্গে ১৩ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন : রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির দেশীদশের বিবিয়ানাতে কাজি হাসিবুল আহসানের লেখা, সুর এবং গাওয়া ১০৭টি গানের ১৩টি অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন হলো গতকাল শনিবার। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীত পরিচালক খায়াম আহমেদ, বাসু ঘোষ ও আশরাফ বাবু।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ১৩টি অ্যালবাম কাজি হাসিবুল আহসানের তিন বছরের কষ্টের ফসল। অ্যালবামের গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা কম্পোজাররা।

কাজি হাসিবুল আহসান বলেন, ‘একসঙ্গে ১৩টি অ্যালবাম প্রকাশ হওয়া যেকোনো শিল্পীর জন্য অনেক আনন্দের। সম্ভবত একটি রেকর্ডও। আমরা গিনেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করি এই গানগুলো দেশে এবং দেশের বাইরে ছড়িয়ে দিতে সবাই আমার পাশে থাকবেন।’



মন্তব্য