kalerkantho


যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা জানাবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যথাসময়ে জাতির সামনে ‘সহায়ক সরকারের’ রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার দলটির সমর্থক চিকিৎসকদের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীতে আরো দুটি অনুষ্ঠানে নেতারা নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের কার্যকলাপের সমালোচনা করেন।

গতকাল সকালে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রত্যেক বিষয়েরই একটি সময় আছে। সেই সঠিক সময়ে অর্থাৎ যথাসময়ে অবশ্যই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির কাছে আমরা তুলে ধরব।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, আমরা নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার চাই। আওয়ামী লীগের সরকার বা শেখ হাসিনার সরকার চাই না। কারণ তাদের অধীন কোনো দিন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। সে কথা তারা (সরকার) শুনছেও না, সে কথায় তারা যেতেও চায় না। তারা জানে, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন হয়, সুষ্ঠু ও অবাধ হয়, মানুষ যদি ভোট দিতে পারে, তাহলে তাদের ভরাডুবি হবে।’

কেন নির্বাচনকালীন সরকার বিএনপি চায় তার ব্যাখ্যায় বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে, নেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গতকালও আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসীন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারা দেশে প্রতিদিনই গ্রেপ্তার চলছে। আর তারা (সরকার) নির্বাচনের কথা বলছে। এমন পরিবেশ থাকলে সেখানে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে?’

মির্জা ফখরুল বক্তব্য দেওয়ার সময় ড্যাব মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি নেতা সিরাজউদ্দিন আহমেদ, আতাউর রহমান ঢালীসহ ড্যাব নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের ওপর কত অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন। সভা করতে দেয় না, ঘরোয়া একটি বৈঠক, এমনকি আমার গ্রামে ঘরোয়াভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সুযোগ দেয় না পুলিশ।’

মওদুদ বলেন, ‘উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করে তাদের জনপ্রিয়তা কমেছে, এটা তারা নিজেরাই প্রমাণ করেছে। বিএনপি নির্বাচনী মাঠে নামলে দেশের রাজনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। আমরা নির্বাচন করব, এবার আমরা খালি মাঠে গোল করতে দেব না। সেই জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার যদি ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে সিরিয়াস হতো তাহলে অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচন স্থগিতের পরদিন গিয়ে (আদালতে) এটা কেন স্থগিত করলেন না? সুতরাং বোঝা যায়, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন পরিকল্পনা করে রিট করেছে। কেন? কারণ জাতীয় নির্বাচন আসছে সামনে, এ জন্য তারা ঝুঁকি নিতে চায়নি।

সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবু নাসের রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে গতকাল প্রায় একই সময়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি, বিপন্ন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনাসভা হয়। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ২০১৮ সালের শেষে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ওই নির্বাচনের জন্য আজ জনগণের মধ্যে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্নগুলো হচ্ছে নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না? সবার মনেই একটা প্রশ্ন—আগামী নির্বাচনে নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার অর্থাৎ আমার ভোট আমি প্রয়োগ করতে পারব কি না?

আমীর খসরু বলেন, প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে কারণ আজকে আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচনী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটির কাজ হচ্ছে দেশের জনগণকে বাইরে রেখে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া। এর জন্য প্রয়োজনীয় যা যা করার সব কিছু করছে ও করবে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ূন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, খায়রুল কবীর খোকন, শিরিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য