kalerkantho


গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্র ইব্রাহীমের বাড়িতে আহাজারি

‘ঘাতকদের বিচার চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও গফরগাঁও প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘ছেলে বলত লেখাপড়া করে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে। সেনাবাহিনীতে চাকরি না পেলে চিকিৎসক হবে। আর সে বাড়ি ফিরল লাশ হয়ে। আমার সংসারের আলো নিভে গেল। আমি এর বিচার চাই।’

বুকফাটা আর্তনাদে কথাগুলো বলছিলেন ইব্রাহীম খলিলের বাবা জামাল উদ্দিন। সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহীম বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ শহরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হন। শুক্রবার তাঁর লাশ গফরগাঁও উপজেলার রৌহা গ্রামের মধ্যপাড়ায় নিজ বাড়িতে আনা হয়। পরিবারে চলছে আহাজারি। ইব্রাহীমের মৃত্যুতে আনন্দ মোহন কলেজেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গতকাল শনিবার ইব্রাহীমের বিভাগে ক্লাস হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন, সহানুভূতি জানাতে ছুটে আসেন গফরগাঁওয়ে। বিভাগীয় প্রধান শেখ ফখরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা মর্মাহত, ক্ষুব্ধ। তাঁরা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

ইব্রাহীমের পরিবার জানায়, রৌহা গ্রামের মাওলানা জামাল উদ্দিন গফরগাঁও জেএম ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক ও পল্লী চিকিৎসক। রৌহা মধ্যপাড়া মসজিদ মার্কেটে তাঁর একটি ওষুধের দোকান আছে। ছয় ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেজো ছেলে ইব্রাহীম লেখাপড়ার ফাঁকে কৃষিকাজে ও দোকানে বাবাকে সহায়তা করতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইব্রাহীম দোকানের জন্য ওষুধ আনতে ময়মনসিংহে যান। ওষুধ কিনে রাত ১১টার দিকে শহরের শম্ভুগঞ্জ সেতুসংলগ্ন গফরগাঁও সিএনজি স্ট্যান্ডে আসার সময় একদল ছিনতাইকারী ইব্রাহীমকে ব্রহ্মপুত্র পারের কাশবনে নিয়ে ওষুধ ও টাকা ছিনতাই শেষে ছুরিকাঘাত করে ফেলে যায়। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল সকালে গিয়ে দেখা যায়, ইব্রাহীমের বাড়িতে শোকস্তব্ধতা বিরাজ করছে। এলাকার অনেকে এসেছে তাঁর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে। চৌচালা টিনশেড ঘরের দরজার সামনে জামাল বসে আছেন। ঘরে চৌকিতে শুয়ে আছেন শোকে কাতর ইব্রাহীমের মা আছমা খাতুন।

ইব্র্রাহীমের ছোট বোন দাখিল পরীক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘ভাই বলত ভালো করে লেখাপড়া কর, পরীক্ষার সময় তোরে নতুন জামা কিনে দিব। আমারে পরীক্ষার হলে লইয়া যাইব। এখন কে আমারে এসব করে দিব!’ রৌহা পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ইব্রাহীমের আচার-ব্যবহার ছিল চমৎকার। কারো সঙ্গে ঝগড়া করত না। এ যুগে এমন ছেলে কম আছে।’

এ ঘটনায় ইব্রাহীমের ভগ্নিপতি সারোয়ার জাহান ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। থানার ওসি শাকের আহম্মেদ বলেন, সাদ্দাম নামের একজনসহ দুই সন্দেহভাজনকে তাঁরা আটক করেছেন। তাঁদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ খুনি ধরতে তত্পর আছে।



মন্তব্য