kalerkantho


আমদানির মাছ খালাস চলবে, পরীক্ষার আগে বিক্রি নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আমদানি করা মাছ পরীক্ষার আগে বন্দর থেকে ছাড় এবং বাজারে বিক্রি করা যাবে না—এমনই নির্দেশনা জটিলতায় পড়ায় আমদানিকারকদের সঙ্গে সভা করে সিদ্ধান্তে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।

জানা গেছে, আমদানিকারকদের মাছ ছাড় করতে সমস্যা হওয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও আমদানিকারকরা সভায় বসে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ব্যবসায়ীরা পরীক্ষার আগেই আমদানি করা মাছ বন্দর থেকে ছাড় করতে পারবে। তবে তা বাজারে দিতে পারবে না। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসার পরই তারা মাছ বিক্রি করতে পারবে।

এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সদস্য মো. মাহবুব কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথম নির্দেশনার পর কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। গত সোমবার আমদানিকারকদের সঙ্গে মিটিং করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। এখন থেকে তারা মাছগুলো ছাড় করে নিজেদের জিম্মায় রাখতে পারবে। তবে কোয়ালিটি কন্ট্রোল পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা একটা মাছও বাজারজাত করতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘নতুন এ নির্দেশনা চিঠি দিয়ে সব কটি বন্দরকে জানানো হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি বন্দরে আমাদের ইন্সপেক্টররা নিয়মিত কাজ করবে। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষার কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা।’

পরীক্ষার কথা শুনে ব্যবসায়ীরা অনেকটা শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। এতে নতুন করে জটিলতা তৈরি হবে কি না জানতে চাইলে মো. মাহবুব কবির বলেন, ‘আমরা কাউকে শাস্তি দিতে চাই না, নিয়মের মধ্যে আনতে চাই। তবে পরীক্ষা চলাকালীন কোনো ব্যবসায়ী এ মাছ বাজারে বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সি ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন্দু বসু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কারণে আমার আমদানি করা মাছ অনেক দিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে। এত দিনেও ঢাকা থেকে পরীক্ষার রেজাল্ট চট্টগ্রামে পৌঁছেনি। এ কারণে আমার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বিদেশ থেকে মাছ আনি তারা তো ওই সব দেশের অনুমোদিত ল্যাবের সার্টিফায়েড কপি নিয়ে আসছি। এর পরও কেন পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ছে, তা বুঝতে পারছি না। অনেক পণ্য বন্দর দিয়ে আসে। সেগুলোর সব তো পরীক্ষা করা হয় না। সব কিছুই পরীক্ষা করা প্রয়োজন।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ইন্সপেক্টরের মাধ্যমে একবার পরীক্ষা করানোর পরও কেন আবার পরীক্ষা করাতে হবে?

চলতি মাসের প্রথম দিন থেকেই মাছ আমদানি করার পর তার নমুনা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশটি দেয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, এরই মধ্যে মাছের কয়েকটি চালান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে মাছ বাজারজাত করা হলে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।



মন্তব্য