kalerkantho


রাজীবপুরে ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা হাওয়া

ভাগাভাগি করে ক্ষতিপূরণ দেবেন দুই কর্মকর্তা

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রাজীবপুর সোনালী ব্যাংক থেকে হারিয়ে যাওয়া ১০ লাখ টাকা ভাগাভাগি করে পরিশোধ করবেন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যাংক কর্মকর্তা। গত বৃহস্পতিবার রাতে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সোনালী ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের শেরপুর জোনের দুই আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজীবপুর সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার আব্দুল মজিদ ও রাজীবপুর গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ পাঁচ লাখ করে টাকা দেবেন। তাঁদের দেওয়া মোট ১০ লাখ টাকা গ্রামীণ ব্যাংক রাজীবপুর শাখার অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে রাজীবপুর গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর জন্য ১০ লাখ টাকার একটি চেক জমা দেন। চেক অনুমোদনের পরে ক্যাশিয়ার আব্দুল মজিদের টেবিলে যান। এ সময় আব্দুল মজিদ জানান, তিনি এরই মধ্যে গ্রাহককে টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

ক্যাশিয়ার আব্দুল মজিদের দাবি, ফরিদ আহমেদকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পর সেটা ব্যাগে রাখেন এবং ব্যাংক থেকে চলে যান। ১০ মিনিট পর ফিরে এসে আবারও তিনি ১০ লাখ টাকা চান।

ফরিদ আহমেদ জানান, চেক ক্যাশিয়ার আব্দুল মজিদের কাছে আসামাত্রই টাকা দেওয়া হয়ে গেছে দাবি করে তাঁকে চলে যেতে বলা হয়। টাকা না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

খবর পেয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের শেরপুর জোনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক তাজুল ইসলাম এসে সোনালী ব্যাংকের শেরপুর জোনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ওয়াশিউর রহমান ও শাখা ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমানের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া টাকার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে উভয় কর্মকর্তাকে পাঁচ লাখ করে মোট ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংক শেরপুর জোনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ওয়াশিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকসহ রাজীবপুর সোনালী ব্যাংকে এক বৈঠকে বসেছিলাম। সেখানে অনেক আলোচনার পর বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমাদের ব্যাংকের ক্যাশিয়ার পাঁচ লাখ আর গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করবেন।’ একই ধরনের কথা জানান, গ্রামীণ ব্যাংক শেরপুর জোনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক তাজুল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত গ্রামীণ ব্যাংকের রাজীবপুর শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার আব্দুল মজিদ ওই ১০ লাখ টাকা যে আমাকে দেননি, মীমাংসার মাধ্যমে সেটি প্রমাণিত হলো।’ সোনালী ব্যাংকের অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছি। আমাকে শুধু শুধু পাঁচ লাখ টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে।’



মন্তব্য