kalerkantho


নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির একটি হোটেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ববিষয়ক সংলাপে বক্তব্যদানকালে তিনি এ সম্পর্ককে সবচেয়ে বিশ্বস্ত অ্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, গত চার দশকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত এ দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের মাত্রা ও গভীরতা বিকশিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জোরালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে সংহতিবিরোধী রূপান্তর ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রভাবশালী নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ‘রাইসিনা সংলাপ’ শীর্ষক এ বার্ষিক আলোচনার আয়োজন করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে যুগান্তরকারী উদ্যোগ নিয়েছে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ৯ বছরে নিরাপত্তা, যোগাযোগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিদ্যুৎ আমদানি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিময়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত লড়াই, নিরাপত্তা সহযোগিতা এ অঞ্চলে ও অঞ্চলের বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লির মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী দৃঢ় অবস্থান ও নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতর সন্ত্রাসী ঘাঁটি গেড়ে ভারতসহ প্রতিবেশীদের নিরাপত্তাকে কেউ হুমকিতে ফেলতে পারে, এমন কোনো সুযোগ শেখ হাসিনার সরকার দেবে না।’ গত ৯ বছরে বাংলাদেশ সরকার তাঁর এ অঙ্গীকারের বিষয়টি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাহমুদ আলী বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের জোরালো ভিত্তি গড়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালেই তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। বাবার সেই স্বপ্নে অনুপ্রাণিত হয়ে শেখ হাসিনা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কানেক্টিভিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ঐক্যবিনাশী শক্তিগুলোর প্রভাব কমছে।’

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে যে সংকট, সেটার সমাধানের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশা, মিয়ানমারে তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসবে। রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত ও সুসম্পন্ন করতে মিয়ানমারের ওপর ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।



মন্তব্য