kalerkantho


দক্ষিণ সিটির ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচনেও স্থগিতাদেশ

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনী চ্যাপ্টার আপাতত ক্লোজ

বিশেষ প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তিন নির্বাচনী চ্যাপ্টার আপাতত ক্লোজ। এ বিষয়ে সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন ও ১৮ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ওপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের পর নির্বাচন কমিশনাররা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্থগিতাদেশ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে আর আলোচনার প্রয়োজন বোধ করেনি।

গতকাল কমিশনের সভা শেষে ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের (বৃহস্পতিবার) সভায় নির্বাচন কমিশনাররা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি, সভার এজেন্ডাতেও বিষয়টি ছিল না।’

হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, সভায় হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গদের ভোটার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, নারী ও পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়েও ভোটার করা যাবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব আইন/নীতিমালা খতিয়ে দেখে সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশনের আরো নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রবাসীদের প্রবাস থেকেই ভোটার করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণের জন্য ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই সেমিনারের প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

কমিশনসভায় আরো যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় সার্কভুক্ত আটটি দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এই সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পরিচয়পত্রের যে সার্ভার রয়েছে সেটিকে আরো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কিভাবে উন্নত করা যায় সে বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছে। এ ছাড়া ২০১২ সালের পর থেকে যারা ভোটার হয়েছে, কিন্তু এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পায়নি, তাদের ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে দেশের সব এলাকায় পেপার লেমিনেটেড এনআইডি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত সচিব আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন ও ১৮টি ওয়ার্ডের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে কমিশন বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৮টি ওয়ার্ডের নির্বাচনের ওপর আদালতের  স্থগিতাদেশের ক্ষেত্রে কমিশনের অবস্থান একই হবে।

আদালতের এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আইনি কোনো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে  হোলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা এখনো পর্যন্ত বিস্তারিত আদেশ পাইনি। শুধু মিডিয়া এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী সনদের মাধ্যমে স্থগিতাদেশের কথা জেনেছি। আমরা যখন আদেশটি হাতে পাব তখন তা কমিশনে উপস্থাপন করব এবং কমিশন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেছেন, ‘ভোটার তালিকা নিয়ে যে সমস্যা তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন তার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেনি। অন্যান্য জটিলতার বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিশন আলোচনা করেনি।’ এই আলোচনা না করার দায় কি নির্বাচন কমিশন স্বীকার করছে?—এমন প্রশ্নের জবাবে হোলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হয় স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে। মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দেয় কোনটার নির্বাচন করব আর কোনটার করব না। কমিশন স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুরোধ পাওয়ার পরই ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করে।’

এ নির্বাচনে আইনগত যেসব সমস্যা ছিল তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেসব সমস্যার কথা কি নির্বাচন কমিশন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানো হয়েছিল? এর জবাবে সচিব বলেন, ‘এ দুই সিটির নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুরোধপত্র পাওয়ার পর এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কমিশন সচিবালয়ের কোনো পত্র যোগাযোগ হয়নি। আমাদের ধারণা, স্থানীয় সরকার বিভাগ যখন এ ধরনের অনুরোধপত্র পাঠায় তখন সংশ্লিষ্ট সব আইন খতিয়ে দেখেই তা পাঠায়। সংশ্লিষ্ট সব আইন খতিয়ে দেখার জন্য তাদের নিজস্ব আইন অনু বিভাগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ তাদের আইন অনু বিভাগের ক্লিয়ারেন্স নিয়েই আমাদের কাছে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছিল।’



মন্তব্য