kalerkantho


ব্যাংকিং সেক্টরের সব ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত নয় : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যাংকিং সেক্টরের সব ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত নয় : অর্থমন্ত্রী

ব্যাংক লুটপাটকারীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগদলীয় একজন সংসদ সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ দাবির জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকিং সেক্টরের সব ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত নয়। তবে ত্রুটিমুক্ত করতে সরকারের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম লুটপাটকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের ব্যর্থতা সরকারের সব সফলতা ম্লান করে দিচ্ছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে ইসরাফিল আলমের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে সংশোধনী প্রস্তাব দেন ১০ জন সংসদ সদস্য। তবে প্রস্তাব উত্থাপনের সময় তিনজন উপস্থিত ছিলেন না। বাকিরা তাঁদের সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। তাঁরা হলেন—আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, মনিরুল ইসলাম, নুরজাহান বেগম, উম্মে রাজিয়া কাজল এবং জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান।

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনেক বড় বড় পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করেছে। ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ অনেক উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন রকমের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করি, এখনো সব ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়। কিন্তু আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি আছে বলে আমি মনে করি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘শুধু চাইলেই একটা জিনিস পাওয়া যায় না। এটাকে কার্যকর করতে সময় লাগে। এখানে দেখতে হয়, যে অনুশাসন বা বিধান আমরা করছি, সেটা যেন প্রয়োগবাদী হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

এর আগে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে ইসরাফিল আলম বলেন, ‘আর্থিক খাত ও ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে সব সময় কোনো না কোনো বিতর্কে আমাদেরকে প্রায়ই বিব্রত, বাকরুদ্ধ ও হতাশ হতে হয়। যাঁরা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে রয়েছেন তাঁদের ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকিং সেক্টর এই সংকটে পতিত হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগকেও বিব্রত হতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতে এই বিশৃঙ্খলার কারণে দেশের আর্থিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে রাষ্ট্রের সুশাসন ব্যাহত হয়। ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের পরিচালকসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা এর সঙ্গে জড়িত, এটা সাদা চোখেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথাযথ ছিল না। সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা জোগান দিতে হচ্ছে অনেক ব্যাংককে। এসব টাকা সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো টাকা। সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রেখে পায় না, এই নজির বাংলাদেশে কম ছিল। কারা এই টাকা লুটপাট করেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত—এদের নাম তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হোক।


মন্তব্য