kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

‘হাওয়ার ওপর মামলা হয়েছে’

আদালত প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে কোনো দুর্নীতি হয়নি। হাওয়ার ওপর ওই মামলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মামলার এক আসামিপক্ষের আইনজীবী।

গতকাল বুধবার বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে বিশেষ এজলাসে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে মামলার এক আসামি শরফুদ্দিন খানের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানিতে তাঁর আইনজীবী আহসান উল্লাহ এ দাবি করেন।

যুক্তিতর্ক শুনানিতে আইনজীবী বলেন, ‘হাওয়ার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি চলছে। জিয়া অরফানেজের নামে দুই কোটি টাকা আসে। এখন তা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। জিয়ার নামে ট্রাস্ট খুলতে চাইলে কয়েক কোটি টাকা চলে আসবে।’

আইনজীবী আহসান উল্লাহ আরো বলেন, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী হয়েছে। ডিড হয়েছে এবং ট্রাস্টের নামে যে জমি কেনা হয়েছে, তাও প্রতিষ্ঠিত। এখান থেকে একটি টাকাও আত্মসাৎ করা হয়নি, বরং দুই কোটি টাকা এখন ব্যাংকে বৃদ্ধি পেয়ে ছয় কোটি টাকা হয়েছে। এ নিয়ে কোনো মামলা হতে পারে না উল্লেখ করে এ আইনজীবী বলেন, ‘আমি আশা করি, এ মামলার সব আসামি খালাস পাবেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে অন্য আসামিদের যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে দুই মামলায় হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। বিকেল ৩টার দিকে তিনি আদালত ত্যাগ করেন।

এর আগে সকালে বিশেষ আদালতে পৌঁছার পরপরই বিচারক ড. আখতারুজ্জামান মামলার শুনানি গ্রহণ করতে এজলাসে বসেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শুনানি শেষে আজ সকাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন।

এদিন মামলার আসামি মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে তাঁদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ। তিনি আজ তাঁর অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করবেন।

এদিন মামলার শুনানি শুরুর প্রথমে মামলাটির কার্যক্রম আজ পর্যন্ত মুলতবি রাখার আবেদন জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। শুনানিতে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী বিধায় পূর্বনির্ধারিত জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি স্থগিত রাখা হোক।

কোনো আপত্তি আছে কি না—এ বিষয়ে বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চান। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘এটা ধর্মীয় ব্যাপার। খালেদা জিয়ার পক্ষে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করলে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

এরপর বিচারক বলেন, ‘আজ পর্যন্ত ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) জামিনে থাকবেন। আর অন্য আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন চলবে।’

তবে মামলার শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আগামীকালের (আজ) যুক্তি উপস্থাপন মুলতবি রাখার জন্য আবেদন করেছি। আদালত তা নামঞ্জুর করে আগামীকাল (আজ) শুধু খালেদাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে ম্যাডাম আগামীকাল (আজ) আদালতে উপস্থিত হবেন।’

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে এ নিয়ে ১১তম দিবসে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার খালেদার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। খালেদার প্যানেলের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।

গত ১৯ ডিসেম্বর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেন।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।



মন্তব্য