kalerkantho


আবার খণ্ডিত হচ্ছে প্রস্তাবিত চিকিৎসা সেবা আইন!

তৌফিক মারুফ   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আবার খণ্ডিত হচ্ছে প্রস্তাবিত চিকিৎসা সেবা আইন!

প্রস্তাবিত ‘চিকিৎসা সেবা আইন-২০১৬’ আবার খণ্ডিত হয়ে যাওয়ার আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার সমর্থক চিকিৎসক নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এটা ঘটতে যাচ্ছে বলে অনেকের অভিমত। সাধারণ চিকিৎসকরা বলছেন, মূলত বিএমএর সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতৃত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে আইনের উদ্যোগটি। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ওই প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নবিষয়ক এক সভার পর দ্বন্দ্বের বিষয়টি আবার সামনে চলে আসে। সভায় চিকিৎসকদের এক পক্ষের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও আরেক পক্ষের নেতারা উপস্থিত হননি। তাঁদের বক্তব্যে নতুন উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় প্রকাশ পেয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতের আলোচনার বড় এক অংশজুড়ে ছিল স্বাস্থ্যসেবা আইনের বিষয়টি। সরকারের আগের মেয়াদের স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ডা. রুহুল হকের সময় এক দফা খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছিল রোগী, চিকিৎসক ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষা বিষয়ে আলাদা তিনটি আইনের জন্য। পরে তা নেমে আসে দুটিতে। একপর্যায়ে ওই দুটি পৃথক আইনের পথ থেকে সরে এসে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সময়ে করা হয় সম্মিলিত একটি আইনের খসড়া। সর্বশেষ গত বছর ‘চিকিৎসা সেবা আইন-২০১৬’ নামের খসড়াটি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক-সভা-সেমিনার চলে। খসড়াটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু একপর্যায়ে ওই প্রক্রিয়া থেমে যায়। এখন হঠাৎ করেই আবার শুরু হয়েছে সেই পৃথক দুটি আইন করার প্রস্তুতি, যা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক দফা বৈঠক করা হয়েছে। গঠন করে দেওয়া হয়েছে একটি কমিটি। ডাক্তারদের একাংশের আপত্তির কারণেই অনেক দূর এগিয়ে এসেও সম্মিলিত ‘চিকিৎসা সেবা আইন-২০১৬’-এর খসড়া থেকে সরে আসার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানায় ওই সূত্র।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসচিব (স্বাস্থ্যসেবা) মো. সিরাজুল হক খান গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা রোগী ও চিকিৎসক সবার স্বার্থ সুরক্ষা হবে এমন একটি ইতিবাচক আইন করতে চাই। সেটা আগের প্রস্তাব অনুসারে একটি আইনই হবে, নাকি পৃথক দুটি আইন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করার জন্যই একটি কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটি আলাপ-আলোচনা পর্যালোচনার ভিত্তিতে যা ভালো হয় তা-ই করবে। এ ক্ষেত্রে কোনো সংগঠন বা নেতাদের দ্বন্দ্বের বিষয় প্রাধান্য পাবে না।’

 



মন্তব্য