kalerkantho


আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ স্বীকৃতি চায় যুক্তরাজ্য

প্রত্যাবাসন উদ্যোগে উদ্বেগ

মেহেদী হাসান   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে স্বীকৃতি চায় যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এই স্বীকৃতি দেবে। ব্রিটিশ সরকারের একজন মন্ত্রী গত অক্টোবর মাসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে এ দেশে রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নীতির ওপর নির্ভর করছে মানবিক সহায়তার ওপর তারা কতটা নির্ভরশীল থাকবে। রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে গত ৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রকাশিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিটির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কমন্স সভার সিলেক্ট কমিটি বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। কমিটি বলেছে, রোহিঙ্গাদের আইনি স্বীকৃতি, অন্তর্বর্তী ও চূড়ান্ত গন্তব্য এবং তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় কি না সে বিষয়ে সুস্পষ্ট বোঝাপড়ার আগেই তাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ গভীর উদ্বেগের।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছয় লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। শরণার্থী ও অভিবাসী বিষয়ক নিউ ইয়র্ক ঘোষণা ও বিশ্ব মানবিক সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ এর স্বীকৃতি ও সহযোগিতা—দুই-ই পাওয়ার যোগ্য।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার খন্দকার মোহাম্মদ তালহার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসা বসতভূমিতে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া এবং এ সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। তবে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) বলেছে, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ মর্যাদা না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সব সুবিধা তারা পাচ্ছে না। এসবের মধ্যে তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের চেষ্টা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত না হতে পারা অন্যতম।

আইআরসির যুক্তি, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে না। বাংলাদেশ তাদের শরণার্থী মর্যাদা দিচ্ছে না। ফলে তাদের সামনে দুটি পথ খোলা। একটি হলো বাংলাদেশে অস্থায়ী শিবিরে নাজুক পরিস্থিতিতে বসবাস করা এবং অন্যটি হলো অনিশ্চয়তা নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। বর্তমানে তাদের সুরক্ষায় তেমন ব্যবস্থা নেই।

ডিএফআইডির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতি কী নীতি গ্রহণ করে তার ওপর ভিত্তি করেই ঠিক হবে তারা মানবিক সহায়তার ওপর কতটা নির্ভরশীল থাকবে। রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে দাতাদের বিনিয়োগের বিষয়টিও এর ওপর নির্ভর করছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমেদ গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ মর্যাদা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।

অ্যামনেস্টির উদ্বেগ : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক জেমস গোমেজ বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগকে ‘অকালীন’ ও ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের স্মৃতিতে ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন ঘটনাগুলো এখনো তাজা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আছে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো থাকা উচিত নয়।’

জেমস গোমেজ আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্তের আগে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি। তাদের সম্মতি ছাড়া ফেরত পাঠানো হলে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’



মন্তব্য