kalerkantho


খুলনায় পাটকলে অচলাবস্থা, শ্রমিক কর্মবিরতি অব্যাহত

খুলনা অফিস   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খুলনা অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে। আলোচনায় ঘটছে না অগ্রগতি। বকেয়া পরিশোধের দাবিতে অনড় শ্রমিকদের মিলে ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগে সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, তারপর আন্দোলন প্রত্যাহার করবে বলে শ্রমিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। কোনো প্রতিশ্রুতিতে তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটতে রাজি নয়। শ্রমিক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় সাধারণ শ্রমিকদের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করার নেই।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট, স্টার, ইস্টার্ন, খালিশপুর, দৌলতপুর, আলিম ও যশোরের জেজেআই জুটমিলে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছে। ফলে এসব মিলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় গত সোমবার রাতে খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে শ্রমিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিস্তর আলোচনা হলেও আন্দোলন প্রত্যাহারে অগ্রগতি ঘটেনি।

সংকট নিরসনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, বিজেএমসি খুলনা জোনের প্রধান গাজী শাহাদাত হোসেন, ক্রিসেন্ট জুটমিলের প্রকল্প প্রধান আবুল কালাম হাজারী, শ্রমিক নেতা সরদার মোতাহার উদ্দিন, সোহরাব হোসেন, হারুন অর রশিদ মল্লিক, এস এম জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, পাটজাত পণ্য বিক্রির টাকা হাতে পেলে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হবে। তাই উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে শ্রমিকদের কাজে ফেরা দরকার বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এক বা দুই সপ্তাহের অর্থ নিয়ে নিজ নিজ মিলের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানালে তা তাত্ক্ষণিক নাকচ হয়ে যায়। শ্রমিকরা এ প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। শ্রমিক নেতারা বলেন, সাধারণ শ্রমিকরা বকেয়া না পেয়ে কাজে ফিরতে চায় না। তাই আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।

এদিকে গতকাল শ্রমিকরা পাটকলগুলোর সামনে সভা করে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আজ নগরীতে তারা লাল পতাকা মিছিলের কর্মসূচি পালন করবে।

শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন এ বিষয়ে বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

প্লাটিনাম জুটমিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠিকে গেছে। তাই আন্দোলন ছাড়া কিছু করার নেই। বিজিএমসির ভুল পদক্ষেপের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো ধংস হতে চলেছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপসহ সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ চাই।’



মন্তব্য