kalerkantho


ভ্রাম্যমাণ আদালত

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে পরিচালনায় বাধা নেই

আপিল শুনানি শুরু ১৩ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে আপিল করার অনুমতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে আপিল বিভাগের আদেশে। অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে ওই আদেশ দেন। ফলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় আপাতত বাধা নেই।

গতকাল সরকারের দুটি দপ্তরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। সরকারের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। আর রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা পরে সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে  সরকার পক্ষের তিনটি লিভ টু আপিল ছিল। সেগুলো মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ তিন সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর পৃথক একটি আপিল  করেছিল। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে সব বিষয়ের আপিল শুনানি শুরু  হবে। মুরাদ রেজা আরো বলেন, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় আইনগত কোনো বাধা নেই।

তিনটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ ও ২০১২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে গত বছর ১১ মে রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯ এর ১১টি ধারা-উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, এই আইন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে অ্যাসথেটিক প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান খানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাসের কারাদণ্ড দিলে জামিন নিয়ে ১১ অক্টোবর একটি রিট আবেদন করেন তিনি। ওই আবেদনে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন-২০০৯-এর কয়েকটি ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

একই বছরের ১১ ডিসেম্বর ঢাকার টয়েনবি সার্কুলার রোডের মো. মজিবুর রহমানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড ও জরিমানা করলে তিনি একটি রিট আবেদন করে এসংক্রান্ত আইনের কয়েকটি ধারা বাতিল চান এবং জরিমানার অর্থ ফেরত পেতে নির্দেশনা চান।

পরের বছর ২ মে দিনাজপুরের বেকারি মালিকদের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহসহ ১৭ জন ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের কয়েকটি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি রিট করেন। এসব রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন।



মন্তব্য