kalerkantho


ডিসিসি নির্বাচন

আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছে ইসি বলছে ‘খবর নেই’

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না। প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ থাকলেও অনেকেই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, এমন কোনো খবর তাদের কাছে নেই।

সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর ধারা ৫-এ বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবে না। অন্য এক ধারায় বলা আছে, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মোবাইল কোর্ট কোনো ব্যক্তিকে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন। আর কোনো রাজনৈতিক দল বা সংস্থা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

ইসি এই বিধানবলে দুই সিটির এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ৬ জানুয়ারির মধ্যে সব প্রচারসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু এই কঠোর বিধান সত্ত্বেও গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ফ্লাইওভারের পিলার ও গণপরিবহনে নির্বাচনী পোস্টার দেখা গেছে। বিশেষ করে ডিএনসিসি এলাকায় সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থীদের তত্পরতা চোখে পড়ার মতো। মোহাম্মদপুর, মিরপুর-১০, উত্তরা, কুড়িল বিশ্বরোড, কাওরান বাজার, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে ইসি ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করলেও তাঁরা গতকাল পর্যন্ত মাঠে নামেননি। গত দুই দিন কমিশনের ইটিআই ভবনে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে ইসি। তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ। আজ মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেম বলেন, ‘কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, এমন খবর এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। আমরা আশা করছি, নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত সব প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলবেন। অন্যথায় আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কি না, তা মনিটরিংয়ে ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি পৃথক টিম থাকবে।’

ডিএনসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার গুলশান এলাকায় প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী এক প্রার্থীকে। ফেসবুকে ওই প্রচারণার ভিডিও আপলোড করেছে তাঁর সমর্থকরা। এর আগে বৃহস্পতিবার বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন এক ব্যবসায়ী নেতা। বুধবার তিনি মিরপুর শাহআলীর মাজারে একটি জনসভায় বক্তব্য দেন। অনেকটা কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য এক প্রার্থী। গত বুধবার কারওয়ান বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার একই এলাকায় অন্য এক সম্ভাব্য প্রার্থীও  গণসংযোগ ও কর্মিসভা করেন।

প্রসঙ্গত, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ২৬ ফেব্রুয়ারি।



মন্তব্য