kalerkantho


মানবতাবিরোধী অপরাধ

পুঠিয়ার ফিরোজের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ১৮ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জন্য আগামী ১৮ মার্চ দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই দিন ধার্য করেন।

গতকাল এ মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিলের দিন ধার্য ছিল। মামলার প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম প্রতিবেদনটি দাখিল করেন এবং এটি যাচাই-বাছাই করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে তিন মাস সময় চান। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে দিন ধার্য করা হয়।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি হত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ওই দিনই প্রতিবেদনটি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়।

একাত্তরে স্থানীয় শান্তি কমিটির দুর্ধর্ষ ও দাপুটে সদস্য হিসেবে ফিরোজ খাঁ তাঁর এলাকায় বেশ আলোচিত বলে জানা যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পুঠিয়া উপজেলার বাঁশবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মো. আব্দুস সামাদ মুসা ওরফে ফিরোজ খাঁ মুক্তিযুদ্ধের আগে মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে শান্তি কমিটির স্থানীয় নেতার নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হন তিনি। ওই সময় পুঠিয়ার ভালুকগাছি ইউনিয়নের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর হয়ে এ আসামি পুঠিয়া ও দুর্গাপুর এলাকায় এসব অপরাধ ঘটান। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় চার সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যা ও ২১ জনকে নির্যাতন ছাড়াও অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তদন্ত সংস্থা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিরোজ খাঁর পূর্বপুরুষরা ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে আসা। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সেখানে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

তদন্ত সংস্থা জানায়, ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর ফিরোজের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তদন্ত করে তদন্ত সংস্থা। এ মামলার তদন্ত শুরুর আগেই পাঁচ অভিযুক্ত মারা গেছেন। আসামি আব্দুস সামাদ মুসা ওরফে ফিরোজ একাই বেঁচে আছেন। তদন্তের সময় নাশকতার এক মামলায় গ্রেপ্তার হন ফিরোজ খাঁ। পরে গত বছরের ২৪ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাঁকে।



মন্তব্য