kalerkantho


অধিভুক্তি বাতিলের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক নিখোঁজ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে উপাচার্য অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে অভিনব কৌশলে তাদের ওপর হামলা করে আন্দোলন পণ্ড করে দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উপাচার্য অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপাচার্য অফিসের সামনে ছাত্ররা দাঁড়িয়ে ও ছাত্রীরা বৃত্তাকারে বসে আন্দোলনের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিল। একপর্যায়ে সেখানে একদল তরুণ-তরুণী এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তারা মেয়েদের উদ্দেশ করে নোংরা কথা বলে এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করতে থাকে। তাদের এই আচরণে মেয়েরা টিকতে না পেরে একে একে চলে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা কমতে থাকলে হামলাকারীরা আরো কাছে এসে তাদের ঘিরে ধরে ছেলেদেরও মারধরের হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে হামলাকারী তরুণীরা মেয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। সাংবাদিকরা এই দৃশ্যের ছবি নিতে গেলে অন্যরা সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করে। তাঁদের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। এর আগে এই আন্দোলনের সমন্বয়ক মশিউর রহমান সাদিককে মুখ চেপে ধরে মারতে মারতে উপাচার্যের অফিসে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। সেখানে তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল, মানিব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সাদিককে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে। এর পর থেকে অধিভুক্তদের কোনো কাজ এখানে করা হবে না। তাদের যেকোনো একটা কলেজে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রসঙ্গত, অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা নষ্ট হচ্ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ে যানবাহন ব্যবহার করছে। এ ছাড়া তাদের কাজের চাপের কারণে প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ যুক্তি তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে আন্দোলন করে আসছিল। এ অবস্থায় তাদের ওপর হামলা করা হলো।



মন্তব্য