kalerkantho


আগামী শিক্ষাবর্ষেই গুচ্ছ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করতে জোরদার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের অভিপ্রায়ে মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল রবিবার এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের ধারণাপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান গতকাল এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার সময় দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে দৌঁড়াতে হয়। এতে অনেকেই ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারে না। আবার অনেকে ইচ্ছা থাকলেও পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। এ জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার অভিপ্রায় জানিয়েছিলেন। সে লক্ষ্যেই কমিটি গঠন করা হলো। আমরা যথাসময়েই আমাদের ধারণাপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা  দেব।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ধারণাপত্র তৈরিতে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালককে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকছেন ইউজিসির চারজন সদস্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব। কমিটি যে ধারণাপত্র তৈরি করবে তা রাষ্ট্রপতির কাছেও পাঠানো হবে। এরপর তা বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। 

জানা যায়, সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তবে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনাগ্রহেই আটকে আছে এই পদ্ধতি। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীদের দৌড়াতে হয় দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। এমনকি একই জেলায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে দুবার যেতে হয় শিক্ষার্থীদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই মেডিক্যালে ভর্তিতে সমন্বিত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তিন ভাগে ভাগ করে এই গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৩-১৪ সেশনে একত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সফলতার মুখ দেখেনি।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদাভাবে ফরম কিনতে হয়। এতে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বড় অংকের আয় হয়। ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষার আয়ের ৪০ শতাংশ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা রেখে তা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তা করে না। গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই বিপুল আয়ে ছেদ পড়বে। তাই বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে আগ্রহী নয়। এ ছাড়া ভর্তি-বাণিজ্য আর কোচিং-গাইড বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা এ পদ্ধতির বিরোধিতা করেন। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলে কোচিং-গাইড ব্যবসায়ও বড় ধস নামবে।



মন্তব্য