kalerkantho


ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির কাজ শুরু

সাংবাদিকদের ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির কাজ শুরু

মিজানুর রহমান

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগের তদন্তে কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। অতিরিক্ত আইজিপি মাইনুর রহমান চৌধুরী ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শাহাবুদ্দিন কোরাইশীর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

গতকাল শনিবার ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এই কথা বলেন। তিনি সন্ধ্যায় পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। তিনি জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে আইজিপির নির্দেশে অতিরিক্ত আইজিপি মাইনুর রহমান চৌধুরী ও অতিরিক্ত কমিশনার শাহাবুদ্দিন কোরাইশীর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় কোনো সাংবাদিকের জিডি না নেওয়ার ঘটনা তাঁর জানা নেই। জনসাধারণ থানা পুলিশের কাছ থেকে অসহযোগিতা পেলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যদি কেউ বিপদে পড়ে থানায় যায়, তাকে অবশ্যই সেবা দিতে হবে। এই নিয়ে গড়িমসি করলে তাকে থানায় রাখা হবে না।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি, ভালোবাসি লাল-সবুজের পতাকাকে, ভালোবাসি আপনাদের। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পুলিশ জীবন দিয়ে কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, জঙ্গিসহ অন্যান্য অপরাধ যেভাবে আমরা দমন করছি, ঠিক সেভাবে আপনাদের সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

সম্প্রতি ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ইকো ও তাঁর মা কুইন তালুকদার। তাঁরা বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে কৌশলে ইকোকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মিজান। পরে বেইলি রোডের মিজানের বাসায় নিয়ে তিন দিন আটকে রাখা হয়েছিল। আটকে রাখার পর বগুড়া থেকে তাঁর মাকে ১৭ জুলাই ডেকে আনা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা কাবিননামায় মিজানকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। পরে লালমাটিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে ইকোকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখেন আগে থেকেই বিবাহিত মিজান।

ইকোর অভিযোগ, কয়েক মাস কোনো সমস্যা না হলেও ফেসবুকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি ছবি পোস্ট করার পর ক্ষিপ্ত হন মিজান। ভাঙচুরের মিথ্যা একটি মামলা দিয়ে তাঁকে গত ১২ ডিসেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। সেই মামলায় জামিন পাওয়ার পর মিথ্যা কাবিননামা তৈরির অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হয়। ওই মামলাতেও জামিনে বেরিয়ে এসে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন ওই নারী। অভিযোগ ওঠার পর ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মিজানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। তবে বিয়ে ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানের দাবি, ওই নারী একজন প্রতারক।


মন্তব্য