kalerkantho


বাহুবলে ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট

পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার আশ্বাস

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাহুবলে ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত দীননাথ ইনস্টিটিউশন মডেল হাই স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে গতকাল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অবস্থান ধর্মঘট করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের বাহুবলে জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত দীননাথ ইনস্টিটিউশন মডেল হাই স্কুলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে আর ভর্তিবঞ্চিতরা বিদ্যালয়ের বাইরে শহীদ মিনারে ধর্মঘট করছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকেল ৩টায় পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করে বাড়ি ফিরে যায়।

জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১৫ শিক্ষার্থী ফরম সংগ্রহ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫২১ জন। এর মধ্যে ৩৭৬ জনকে কৃতকার্য ঘোষণা করা হয়। ১৪৫ জন অকৃতকার্য হয়। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি শতাধিক শিক্ষার্থী। ধর্মঘট পালনকারী ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলে, ‘আমাদের পরীক্ষার নামে কঠিন প্রশ্নপত্র দিয়ে বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। আমি গরিব ঘরের সন্তান, অভাব-অনটনের মাঝে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। অভাবী সংসারে জন্ম নিয়ে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছি না। মাঝেমধ্যে দিনমজুর বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগীও হতে পারিনি। আমার ইচ্ছা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ভালো করে লেখাপড়া করে পরিবারে হাসি ফোটাব।’ শিক্ষার্থী শামছুন্নাহার ইভার দাবি, সে ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রে সব প্রশ্নের উত্তর ভালো করে লিখেছে। সে অকৃতকার্য হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না; কিন্তু বিদ্যালয়ের ফলাফল তালিকায় তার নাম নেই। এ কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিও করছে না। তার ধারণা, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত অভিভাবকরা বলছেন, মনগড়া ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে অবিবেচক কর্তৃপক্ষ। উপজেলা সদরের আশপাশে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় আর কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় তারা পড়েছেন বিপাকে। এ অবস্থায় ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা না হলে প্রয়োজনে তাঁরা বিদ্যালয় ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন। ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের দোহাই দিয়ে কঠিন ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তিবঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা যে বিদ্যালয়কে সরকারীকরণের জন্য আন্দোলন করেছি, সেই বিদ্যালয়ে যদি আমাদের বাচ্চাকাচ্চারা ভর্তি হতে না পারে তাহলে এই বিদ্যালয়ের দরকার কী?’ রামপুর চা বাগানের শ্রমিক মানু চাষা বলেন, ‘আমার ভাতিজা বিপ্লব চাষা মৌড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার যোগ্য। এখন স্কুলে ভর্তি করতে এসে দেখি এখানে নাকি আবার পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হতে হয়। সরকার যেখানে চা শ্রমিকদের বিদ্যালয়মুখী করতে নানা ধরনের সেবা দিচ্ছে, সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভর্তি পরীক্ষার নামে চা শ্রমিক সন্তানদের লেখাপড়ার আলো নিভিয়ে দিচ্ছে।’

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রণয় চন্দ্র দেব জানান, যারা ভর্তি হতে পারেনি তাদেরকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া হবে। যারা পাস করবে তাদের ভর্তি করা হবে। শনিবার দুুপুরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য