kalerkantho


মামলা করলেন না ছাত্রলীগকর্মীর বাবা

সিলেটে তানিম হত্যায় আসামি ২৯, বাদী বন্ধু

সিলেট অফিস   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিলেটে ছাত্রলীগের কর্মী তানিম খান হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার পাবেন না বলে তাঁর বাবা মামলা করতে অনীহা প্রকাশের পর শেষ পর্যন্ত মামলা দায়ের করলেন নিহতের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন রাহী। সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের ভাতিজা সাজিদুর রহমান আজলাকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের বিরুদ্ধে শাহ পরান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

ঘটনার চার দিনের মাথায় গত বুধবার রাতে এই মামলা দায়ের করেন ছাত্রলীগের কর্মী রাহী। মামলায় আসামি হিসেবে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ডায়মন্ড ছাড়াও ছাত্রদলের দুজন নেতার নাম রয়েছে। মহানগর পুলিশের শাহ পরান থানার ওসি আক্তার হোসেন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন রাহী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে ডায়মন্ডসহ দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে গত সোমবার কারাগারে পাঠিয়েছে। আজলাসহ বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত রবিবার সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় আধিপত্যের জের ধরে ছুরিকাঘাতে তানিমকে হত্যা করা হয়। তানিম সিলেট সরকারি কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকার অনুসারী ছাত্রলীগকর্মী। সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ অনুসারী ছাত্রলীগকর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করে আসছেন তানিমের সহপাঠীরা। বুধবার দায়ের করা মামলায়ও আজাদের ভাতিজাসহ তাঁর অনুসারীদেরই আসামি করা হয়। যদিও ছাত্রদলের দুজন নেতাকেও আসামি করা হয়েছে। এঁরা হলেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক উমেদুর রহমান ও সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আফজল হোসেন।

এদিকে নিহত তানিমের পরিবার মামলা দায়েরে অনাগ্রহের কারণে তানিমের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন মামলাটি করেছেন বলে জানা গেছে। তানিমের মামা কামাল আহমদ বলেন, ‘ছেলে খুনের ঘটনায় তানিমের বাবা মামলা দিতে রাজি হচ্ছেন না। মামলা করলে বিচার পাবেন কি না, তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত। এ ছাড়া কারা হত্যা করেছে তা তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউই নিজের চোখে দেখেননি। তাই নিশ্চিত না হয়ে কারো বিরুদ্ধে তিনি মামলা করতে চান না। আত্মীয়-স্বজন অনেকেই বুঝিয়েছে, কিন্তু তিনি মামলা করতে রাজি হচ্ছেন না। ছেলে হত্যার বিচারের ভার তিনি আল্লাহর কাছে দিয়ে রেখেছেন।’

জানা যায়, নিহত তানিমের বাবা ইসরাইল খান প্রায় ২০ বছর স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে তাবলিগে যোগ দেন। একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় তাঁর বেশ সুনাম রয়েছে। ছেলে হত্যার পর থেকে তিনি ভেঙে পড়েছেন।



মন্তব্য