kalerkantho


‘আমার টাহা নাই, কই যামু ক্যার দারে বিচার পামু’

পটুয়াখালী সদর

এমরান হাসান সোহেল পটুয়াখালী   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘আমার টাহা নাই, কই যামু ক্যার দারে বিচার পামু’

পৌষের শেষ বেলায় হিম বাতাসে কনকনে শীত পটুয়াখালীতেও জেঁকে বসেছে। সন্ধ্যা হতেই মানুষ ঘরের আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। অন্য সময় সন্ধ্যায় যে পরিমাণ মানুষকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত, বর্তমানে তার উল্টো। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। এরই মধ্যে গত রবিবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী সদর থানায় গিয়ে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা।      

থানার প্রধান ফটক ঘেঁষে দেয়ালে বড় বড় অক্ষরে লেখা—‘পুলিশ জনতার যৌথ দল, পটুয়াখালীবাসীর অসীম বল।’ সঙ্গেই আরো লেখা রয়েছে, ‘পুলিশকে হ্যাঁ বলুন অপরাধকে না বলুন।’

চমৎকার এই স্লোগানগুলো পড়তে পড়তে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা মিলল অন্য চিত্র। সন্ধ্যা গড়িয়ে তখন রাত ৮টা। থানা ক্যাম্পাসের মাঠের কোণে ঘুরে বেড়াচ্ছেন খোঁচাখোঁচা দাড়িওয়ালা এক লোক। হাতে একটি শপিং ব্যাগ। তার মধ্যে একতাড়া কাগজপত্র। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। পাশে গিয়ে নাম জিজ্ঞেস করলে জানালেন, ইউসুফ আলী প্যাদা। বয়স ৫০। বাড়ি পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকায়।

কেন এত সময় ধরে অপেক্ষা করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কলেজে পড়া পোলারে এই থানার সামনে কোপাইয়া খুন করছে সন্ত্রাসীরা। মাইনস্যে দ্যাখছে খাড়াইয়া। আর হেই খুনিগোরে চার্জশিট দিয়া বাঁচাইয়া দেছে থানার পুলিশ। থানায় আইছি স্যারের লগে (ওসি) দ্যাহা করতে। অপরাধ ছাড়াই আমার পোলারে খুন করা অইছে। বাবা অইয়া কান্দে পোলার লাশ বহন করছি। এ্যাহন বিচারও পাই না। আসামিরা প্রভাব খাডাইছে। পুলিশ এই লইগ্যা ছয়জন আসামির মধ্যে দুইজনের নাম রাইক্কা চার্জশিট দেছে। থানার সামনে কত ভালা কতা ল্যাহা, ভিতরে চলে উল্ডা কাম।’

কথাগুলো বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে ওঠেন ইউছুফ আলী প্যাদা। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ চার্জশিট দেছে গত বছর অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ। তাও সব গোপনে করেছে। আদালত গত ৪ ডিসেম্বর ওই চার্জশিট পাইছে। আমি জানতে পারছি অল্প কয়দিন আগে। আমার টাহা নাই, পয়সা নাই। কই জামু, ক্যার দারে বিচার পামু! আমার মোত মাইনস্যের কি আসল খুনিগো বিচার চাওয়ার অধিকার নাই? আমার পোলা মাহাবুব হত্যাকাণ্ড শহরের আলোচিত ঘটনা। ওর কলেজের ছাত্রছাত্রীরা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। এলাকার লোকজন মানববন্ধন করছে। য্যাগোরে আসামি করা অইছে হেরা সবাই মিল্লা খুন করছে। সামনের দ্যাওয়ালের লেহার মতন পুলিশ আমার বন্ধু অইলে না।’

জানতে চাইলে সদর থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাহাবুব হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ তদন্ত করে যা পেয়েছে তাই চার্জশিটে দেওয়া হয়েছে। আর শিমুলবাগে যে চুরির অভিযোগ করা হয়েছে তা নিয়ে এখনো মামলা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’



মন্তব্য