kalerkantho


রোহিঙ্গা তরুণীকে বিয়ে করে রিট

বরের বাবার এক লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা তরুণী রাফিজা। মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের মুখে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পালিয়ে আসেন বাংলাদেশে। পরে আশ্রয় নেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রামে। সেখানে বাংলাদেশের তরুণ শোয়াইব হোসেন জুয়েলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁদের এই প্রেম পরিণয়ে রূপ নেয়; কিন্তু বাদ সাধে আইন মন্ত্রণালয়ের এসংক্রান্ত জারি করা একটি নির্দেশনা। ফলে বিয়ের পর তাঁদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গা তরুণীকে বিয়ে করায় পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জুয়েলের বাবা বাবুল হোসেন। রিট আবেদন করেন তিনি; কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। হাইকোর্ট তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। ৩০ দিনের মধ্যে এই টাকা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিতে বলা হয়েছে। না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। নিজের ছেলে ও পুত্রবধূকে পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষার জন্য বাবুল হোসেনের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়ে এ নির্দেশনা দেন আদালত। আদালতে তাঁর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মিসবাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা তরুণীকে নির্ধারিত এলাকার বাইরে এনে বিয়ে করে অপরাধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে রিট করে আদালতের সময় নষ্ট করা হয়েছে। এ জন্য আদালত রিট আবেদনকারীকে জরিমানা করেছেন।

আইন মন্ত্রণালয় গত বছরের ২৫ অক্টোবর কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামকে বিশেষ এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ওই চার জেলার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রতি নির্দেশনা জারি করে। এতে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া বাংলাদেশি ছেলে ও মেয়ের বিয়ে রেজিস্ট্রি না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরও কক্সবাজারের টেকনাফের কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করা রোহিঙ্গা তরুণী রাফিজাকে (১৮) বিয়ে করেন বাবুল হোসেনের ছেলে শোয়াইব হোসেন জুয়েল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ বিয়ে হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি ৮ অক্টোবর প্রতিবেদন প্রকাশ করে।



মন্তব্য