kalerkantho


হাইকোর্টের রুল

সেনা কর্মকর্তা নাজমুলকে সাময়িক বরখাস্ত নয় কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সেনা কর্মকর্তা নাজমুলকে সাময়িক বরখাস্ত নয় কেন

ময়মনসিংহের গার্লস ক্যাডেট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শার্মিলা শাহরিন পলিন হত্যা মামলার আসামি সেনা প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের ইস্টবেঙ্গল জেনারেল স্টাফ অফিসার লে. কর্নেল মো. নাজমুল হককে কেন সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। প্রতিরক্ষাসচিব, সেনা সদর দপ্তরের অ্যাডজুট্যান্টসহ সাতজনকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতের এই আদেশ বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পলিনের বাবা আবুল বাশার পাটোয়ারীর করা এক রিট আবেদনে আদেশটি দেন আদালত। রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ ও ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। পলিন হত্যা মামলাটি বর্তমানে ময়মনসিংহের আদালতে বিচারাধীন।

ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে ২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শর্মিলা শাহরিন পলিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিনই ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন কলেজের অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলাম। তবে একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পলিনের বাবা আবুল বাশার পাটোয়ারী ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে কারো নাম উল্লেখ না করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৩ সালের ২২ মে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ ময়মনসিংহের জজ আদালত মেজর নাজমুল হকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অন্য চার অভিযুক্ত হলেন ক্যাডেট কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেন, নন-কমিশন্ড অফিসার মো. নওশেরুজ্জামান, হোস্টেলের আয়া হেনা বেগম ও মেজর মনির আহমেদ চৌধুরী। পাঁচ আসামির মধ্যে মেজর নাজমুলসহ চারজন জামিনে রয়েছেন। মেজর মনির পলাতক।

নিম্ন আদালতে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে আসামিপক্ষ। আদালত ২০১৬ সালের ১ জুন পলিন হত্যা মামলার বিচারকাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন ও রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে গত বছর ৬ এপ্রিল তা খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার বিচারকাজের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে আদালত গত বছর ৮ মে এক আদেশে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে আসামিপক্ষের আবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে গত বছর ৫ জুন তা খারিজ করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে মামলার বিচারকাজের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।



মন্তব্য