kalerkantho


পুলিশের জব্দ গাড়িতে ‘জব্দ’ নগরবাসী

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পুলিশের জব্দ গাড়িতে ‘জব্দ’ নগরবাসী

রাজধানীর পল্লবী থানা লাগোয়া একটি মাধ্যমিক স্কুলের পাশেই সড়কের অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে ফেলে রাখা হয়েছে যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক বেশ কিছু গাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় সেগুলোর গায়ে জমেছে ধুলার স্তর। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থেকে মরিচা ধরেছে ধাতব যন্ত্রাংশগুলোতে। বসে গেছে চাকাগুলো। বাসা বেঁধেছে ইঁদুর আর পোকা-মাকড়। সন্ধ্যার পর সেখানে বসছে বখাটে মাদকাসক্তদের আড্ডা। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম সড়কের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা দখল করে জব্দ করা গাড়ি ফেলে রেখে এভাবে নানামুখী ভোগান্তি সৃষ্টি করায় চরম বিরক্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু পুলিশের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ পুলিশের জব্দ করা এসব গাড়ি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার আলামত।

সাধারণত চোরাই, দুর্ঘটনাকবলিত, কাগজপত্রবিহীন বা মাদকবাহী গাড়িসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত যানবাহন আটক করে থাকে পুলিশ। মামলা হওয়ার পর আলামত হিসেবে গাড়িগুলো আদালতের নির্দেশে থানায় রাখা হয়। আর এসব গাড়ির সংখ্যা ক্রমে বাড়তে বাড়তে থানা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের বিশাল এলাকা হয়ে পড়ে গাড়ির ভাগাড়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় মহানগরীর ৪৯টি থানার চিত্রই অনেকটা শুধু পল্লবী থানার মতো। এসব থানা প্রাঙ্গণে জব্দ করা পাঁচ হাজারের বেশি যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক গাড়ি অযত্ন-অবহেলায় রোদ-বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। এসবের মধ্যে দামি প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কিন্তু দেখভাল না করায় থানা প্রাঙ্গণের সংশ্লিষ্ট জায়গা পরিণত হয়েছে গাড়িগুলোর ডাম্পিং জোনে। ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা দামি গাড়িগুলোর কোনোটির চাকা, কোনোটির যন্ত্রপাতি, কোনোটির ইঞ্জিনই চুরি হয়ে গেছে।

থানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, জব্দ করা অনেক গাড়িরই শুধু বডি পড়ে আছে। ভেতরের যন্ত্রপাতি সব গেছে চোরের পেটে। আর ফোকলা বডি হয়েছে ইঁদুর ও নানা প্রজাতির পোকা-মাকড়ের বসতি। বংশ বিস্তার করছে মশা-মাছি। বেশির ভাগ থানা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাড়িতে হওয়ায় জব্দ করা গাড়ির জঙ্গল জনদুর্ভোগেরও কারণ হয়ে উঠেছে।

গুরুত্বপূর্ণ মামলার আলামত এভাবে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিটি থানা পুলিশের কাছ থেকে প্রায় অভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তারা বলছে, ‘জব্দ করা গাড়িগুলো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আলামত। মামলার নিষ্পত্তি হলেই মালিকের কাছে গাড়িগুলো হস্তান্তর করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনের উপকমিশনারদের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার ত্বরিত সমাধানের কোনো আশ্বাস মেলেনি।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি হলেই কেবল গাড়িগুলো নষ্ট হবে না। অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি নিলাম জটিলতারও অবসান ঘটাতে হবে।

সরেজমিন চিত্র : পল্লবী থানা লাগোয়া ‘রেনেসাঁ জুনিয়র হাই স্কুল’। আবাসিক এলাকার আশপাশে অনেক বহুতল ভবন। এলাকায় রয়েছে জরুরি ওষুধের দোকান, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের চেম্বারসহ বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান। এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য থানা লাগোয়া গলিসদৃশ একটিমাত্র রাস্তা। ব্যস্ত রাস্তার অর্ধেকের বেশি জুড়ে আছে পুলিশের জব্দ করা নানা ধরনের গাড়ি। এর মধ্যে ‘প্রজাপতি পরিবহনের’ একটি বাসও রয়েছে। এই বাসের কারণে স্কুলে প্রবেশের রাস্তা অনেকটা সরু হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বাসটিতে জন্মেছে আগাছা।



মন্তব্য