kalerkantho


নতুন দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী তারানা

আমি কম কথা ও বেশি কাজে বিশ্বাসী

আমরা একসঙ্গে সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করব : ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আমি কম কথা ও বেশি কাজে বিশ্বাসী

তথ্য মন্ত্রণালয়ে শুভেচ্ছায় সিক্ত তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ছবি : কালের কণ্ঠ

দপ্তর পুনর্বণ্টনের তিন দিন পর গতকাল রবিবার নিজ দপ্তরে যোগদান করেই দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এর আগে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুই বছর চার মাস দায়িত্ব পালন করেন। সকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি। কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, মতবিনিময়, সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ পর্ব শেষে নিজ দপ্তরে যান নতুন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

নতুন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েই ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারানা হালিম। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিভাবে আরো ব্যাপকভাবে প্রচার করা যায়, ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলে সঠিক তথ্য প্রদর্শন কিভাবে করা যায়—এসব বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন। সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিনি মন্ত্রণালয়ে অবস্থান করেন। পরে তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে বেরিয়ে যান।

গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় তারানা হালিম তথ্য মন্ত্রণালয়ে যান। যোগদান করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতিসভায় যোগ দেন। এরপর তথ্য অধিদপ্তরে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এ সময় নতুন মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বললেও আগের মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে সাফল্যের বিষয়গুলোই বেশি করে তুলে ধরেন তিনি।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার এ যাবৎকালের সব সাফল্য বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের। বর্তমান দায়িত্বও আমি সততা, নিষ্ঠা, মেধা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করব। দুর্নীতির সঙ্গে কখনো আপস করিনি, করব না।’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ সময় প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘তারানা হালিম আমার রাজনীতি, সংগ্রাম এবং সংসদের পুরনো সাথি ও সহকর্মী। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং সংসদে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একসঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করব আমরা।’

তথ্যসচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রধান তথ্য অফিসার কামরুন নাহারসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

নিজেকে একজন কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তারানা হালিম বলেন, ‘আমার আগের দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আমার যা কিছু সাফল্য তা শেখ হাসিনার সাফল্য। আমি যেটুকু অতীতে করতে পেরেছি তা শেখ হাসিনার অর্জন। আমি দেশ, দেশের মানুষ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করব। আমি কম কথা ও বেশি কাজে বিশ্বাসী। কাজ শেষে শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে সব কাজ বুঝিয়ে দেব। তারপর কথা বলব। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যখন যে দায়িত্ব দেবেন সততা, দক্ষতা ও মেধা দিয়ে তা সঠিকভাবে করব।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগের মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করা তাঁর জন্য শোভন হবে না উল্লেখ করে তারানা হালিম বলেন, ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি আমার আগের কাজের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরছি। কিন্তু পূর্বতন মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করে শোভনতার মাত্রা অতিক্রম করব না।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অর্জনের উল্লেখ করে তারানা হালিম বলেন, গত আড়াই বছরে মোবাইল গ্রাহকসংখ্যা ১৪ কোটি ৭১ লাখ, ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা সাত কোটি ৭২ লাখ, টেলিঘনত্ব ৮৬.৬ শতাংশ ও ইন্টারনেট ঘনত্ব ৪৭.৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ বছরের ২৭ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণ হবে বলে আশা করা যায়। এ ছাড়া দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে দেশের যুক্ত হওয়া, কুয়াকাটায় দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ শেষে উদ্বোধন, রবি ও এয়ারটেলকে একীভূত করার মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য সৃষ্টি, ডট বাংলা ডোমেইন নেম পুনরায় বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ এবং কলড্রপে (একের অধিক) অপারেটর কর্তৃক কল ফেরত নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশে তৈরি মোবাইল ফোন উৎপাদনের অনুকূলে কর কাঠামো তৈরি, দেশে প্রথম স্মার্টফোন তৈরির কারখানা স্থাপন, ১১ কোটি সিমের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন, সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম স্থাপন, ডাক বিভাগের ২৩টি পয়েন্টে ই-কমার্স চালু, ই-কমার্স জোরদার করার জন্য ১১৮টি যানবাহন যুক্ত করা, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পাইলট প্রজেক্ট চালু ও গণহত্যার ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ডাকটিকিট অ্যালবাম প্রকাশের কথাও বলেন তারানা হালিম।



মন্তব্য