kalerkantho


হঠাৎ বিআরডিবি ‘তছনছ’ ৭০ মামলা, অর্ধশত বদলি

ভারপ্রাপ্ত ডিজি বনাম কর্মকর্তা-কর্মচারী

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘আকরাম হোসেন স্যার বিনা কারণে ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, ২৬ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করলেন। ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত, ২০ জনকে শোকজ করলেন। ঢাকাসহ সারা দেশে উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক পদে অনেককে শাস্তিমূলক বদলি শুধু না, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানে বাধ্য করলেন। সিবিএ বাতিল করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেন। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এমন নিষ্ঠুর আচরণের নজির দ্বিতীয়টা আছে কি না আমাদের জানা নেই।’ বলছিলেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি যৌক্তিক দাবি নিয়ে বিআরডিবি মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আকরাম হোসেনের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি পুরো সংস্থাকে তছনছ করে দিলেন।’

তবে বিআরডিবি মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আকরাম হোসেন গতকাল রবিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কিছু করিনি। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই ফৌজদারি মামলা দায়ের, বিভাগীয় ব্যবস্থা, শোকজ, বদলিসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে সংস্থার দৈনন্দিন কাজে খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনই কোনো সমাধানের সুযোগ নেই। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে উদ্যোগ এলে আমার কিছু বলার নেই।’

বিআরডিবি সূত্র জানায়, গত ৮ নভেম্বর ‘যুগ্ম পরিচালক (পরিকল্পনা)’ পদকে ‘যুগ্ম পরিচালক (নির্মাণ)’ পদে পরিবর্তন করে অর্থ মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করে। এ পদে পদোন্নতি পাওয়ার দাবিদার উপপরিচালক (নির্মাণ) রাশেদুল আলমসহ অন্যান্য পদে থাকা ৫২ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি বৈঠকে বসে পরদিন কারওয়ান বাজারের পল্লী ভবনে। এ সময় পদোন্নতির দাবিদার অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে আপত্তি জানান। তাঁরা বলেন, যুগ্ম পরিচালক (পরিকল্পনা) পদকে যুগ্ম পরিচালক (নির্মাণ) করা যাবে না। করলে শুধু প্রকৌশলীরা পদোন্নতি পাবেন। এ ইস্যুতে ১২ নভেম্বর পল্লী ভবনের নিচতলায় সারা দেশ থেকে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমাবেশ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আকরাম হোসেনের কক্ষে গিয়ে দাবির কথা জানান। এ নিয়ে উপস্থিত বিআরডিবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএ নেতাদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের তর্ক হয়। ১৪ নভেম্বর আকরাম হোসেন বাদী হয়ে ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে ৭০ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি বলেন, ১২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান, হুমকি ও নানা ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশ পাহারায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়।

এদিকে সিবিএ নেতাদের পক্ষে গত ২১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বরাবর আবেদন পেশ করে বলা হয়, ১২ নভেম্বর অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএ নেতাসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত ডিজির কক্ষে গিয়ে তাঁদের দাবি জানান। কিন্তু ডিজি তাঁদের বলেন, ‘আমি সিবিএ, শ্রমিক লীগ, আওয়ামী লীগ এসব বুঝি না। পারলে সরকার আমাকে সরিয়ে দিক।’ এসব কথার প্রতিবাদ করলে তিনি সবাইকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন এবং ২০ নভেম্বর সিবিএ বাতিল করার জন্য পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিবের কাছে পত্র দেন।’

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, মিথ্যা মামলায় আমরা প্রথমে বেশ ভোগান্তিতে ছিলাম। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছি। এরপর নিম্ন আদালত থেকে এখন স্থায়ী জামিনে আছি। আমাদের মামলার চার্জশিট দিতে পুলিশকে ব্যাপক চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি-তেজগাঁও) বিপ্লব কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু সরকারি সংস্থার মামলা আমরা একটু গভীরে গিয়ে তদন্ত করছি। সরকারের একজন কর্মকর্তা একাধিক ব্যক্তির নামে মামলা করেছেন। এখানে কারো চাপে কিছু হবে না। প্রকৃত ঘটনা যা তাই আমরা দেখব।’

এসব বিষয়ে জানতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মাফরুহা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।



মন্তব্য