kalerkantho


আগামীকাল থেকে পুলিশ সপ্তাহ

চাপমুক্ত থেকে কাজ করার পরিবেশ চায় পুলিশ

সরোয়ার আলম   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘জঙ্গি-মাদকের প্রতিকার বাংলাদেশ পুুলিশের অঙ্গীকার’—এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে পুলিশ সপ্তাহ ২০১৮ আগামীকাল সোমবার শুরু হচ্ছে। সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে পুলিশ সদর দপ্তর, রাজারবাগসহ পুলিশের সব ইউনিটে এখন সাজ সাজ রব। এবারের পুলিশ সপ্তাহের তৃতীয় দিনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতিও ভাষণ দেবেন, যা অতীতে হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো স্বরাষ্ট্রের বাইরেও বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। 

মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের এই বছরের পুলিশ সপ্তাহ অন্যান্য বছরের চেয়ে আলাদা হিসেবে দেখছেন তাঁরা। এবার তাঁদের বড় কোনো দাবি নেই। রাজনৈতিক তদবিরবিহীন উপযুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ চান তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা বিষয়টি তুলবেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের পুলিশ সপ্তাহে কিছু ছোটখাটো দাবি উত্থাপন করা হবে। বিশেষ করে কাজ করার সময় উপযুক্ত পরিবেশ চাইব।’

এ প্রসঙ্গে পুলিশপ্রধান এ কে এম শহীদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে। পুলিশ আগের চেয়ে অনেক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহে আমাদের কোনো দাবি নেই। ছোটখাটো দাবিগুলো সহজেই সমাধান করা যাবে।’          

 

পুলিশ সূত্র জানায়, নির্বাচনী বছরে ও নির্বাচনকালীন সময়ে চাপমুক্ত কাজ করতে চাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। প্রতিবছর পুলিশ সপ্তাহের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে কমবেশি বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়ে থাকে। এবার সে ধরনের কোনো এজেন্ডা নেই। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত ৯ বছরে পুলিশের বেশির ভাগ দাবি পূরণ হয়েছে। কিছু দাবি পূরণের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ বলছে, আগে পুলিশের অনেক সমস্যা ছিল। তা বর্তমানে অনেকটা দূর হয়েছে। বিগত বছর পুলিশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। জনগণের সেবা নিশ্চিতকল্পে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৮০ হাজার নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। অপরাধী শনাক্তকরণ, ডাটা সংরক্ষণ ও  জানমালের অধিক নিরাপত্তায় বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথা ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে, ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, সারদা পুলিশ একাডেমির আধুনিকায়ন, জেলার পুলিশ সুপারদের অফিস ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, সিআইডির অফিস ভবন নির্মাণ  হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ন্যাশনাল পুলিশ একাডেমি নির্মাণ, ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের উন্নয়ন এবং টাওয়ার ৭১ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। পুলিশ ব্যাংকের প্রকল্পও এগিয়ে যাচ্ছে।

সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার প্যারেড পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়াম উদ্বোধন করবেন। তিনি পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির স্টল পরিদর্শন করবেন। প্রতিবছর পুলিশ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক সভা হয়ে থাকে। এবার অর্থ, পূর্ত, আইন, পরিকল্পনা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গেও পুলিশসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সভার আয়োজন করা হয়েছে।

অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় দিন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মেলন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সম্মেলন; তৃতীয় দিন ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, পুরস্কার বিতরণ (আইজিস ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র-মাদক উদ্ধার প্রভৃতি), অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের পুনর্মিলনী; চতুর্থ দিনে রয়েছে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইজিপির সম্মেলন এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা ইত্যাদি। ১২ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধসংক্রান্ত মতবিনিময়সভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।



মন্তব্য