kalerkantho


বানারীপাড়ায় শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগ

বরিশাল অফিস   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার প্রভাবশালী এক ডিশ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাট দখল করে বহুতল ভবন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গতকাল শনিবার সকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৭টি সংগঠনের নেতারা শ্মশানঘাট রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), পৌর মেয়র ও থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগকারী সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বানারীপাড়া উপজেলা শাখা, বানারীপাড়া সনাতনী ছাত্র-যুব পরিষদ, শ্রীশ্রী রাধা মাধব নামহট্ট মন্দির ইসকন, বানারীপাড়া কেন্দ্রীয় সর্বজনীন মন্দির, বাজার হরিসভা মন্দির, রায়েরহাট সর্বজনীন শ্রীমাতা কালীমন্দির, শ্রীগুরু সংঘ, সৎ সংঘ, অবধূত সংঘ, শ্রীশ্রী মহানাম সংঘ, শ্রীশ্রী লোকনাথ মন্দির, শ্মশান বাস্তবায়ন কমিটি, বন্ধু মহল, ডেয়ার ডেভিলস, দাসেরবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির এবং ঠাকুরবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বানারীপাড়া পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকবাংলোর পেছনে জেএল ৪২ নম্বর মৌজায় ১৯২ নম্বর খতিয়ানের ৬১৪ ও ৬১৫ নম্বর দাগের ১৩ শতাংশ সম্পত্তিতে থাকা শ্মশানঘাটের একাংশ দখল করে বন্দর বাজারের ডিশ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন তাঁর বহুতল ভবন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করেন। এতে স্থানীয় হিন্দুরা তাঁকে বাধা দেয়; কিন্তু মোজাম্মেল তাদের বাধা উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখেন।

বানারীপাড়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস বলেন, ডাকবাংলোর পেছনে ওই শ্মশানঘাটটি ঘোষবাড়ীর সামনের শ্মশানঘাট হিসেবে পরিচিত। সেখানে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে জমি কেনার নামে মোজাম্মেল হোসেন বহুলতল স্থাপনা নির্মাণ করেন। সালামের কাছ থেকে যে জমি কেনার কথা বলা হয়েছে, সেই দাগের জমিতে ১৩ শতাংশ জমি শ্মশানের বলে ভূমি অফিসের কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

দেবাশীষ দাস বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তাঁকে ভবন নির্মাণের জন্য বাধা দিই; কিন্তু তিনি তা না মেনে ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে সেখানে ভবনের বেইস পিলার স্থাপনের কাজ শুরু করেন। হিন্দুদের শ্মশান রক্ষা করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৭টি সংগঠন মিলে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী ভূমি কমিশনার ও থানার ওসি বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। তাঁরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও জনৈক নূরজাহান বেগমের কাছ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ভবন ও প্রাচীর নির্মাণ করছি। শ্মশান ও জমি একই দাগের। যে শ্মশানের কথা বলা হচ্ছে তা আমার ক্রয়কৃত জমির পাশে অবস্থিত। আমার ক্রয়কৃত জমির পাশে ওই শ্মশানঘাটটি রয়েছে, যা দুই শতাংশের ওপরে প্রতিষ্ঠিত।’

জানা গেছে, জমিটির একাংশের ‘পূর্বের মালিক’ নূরজাহান বেগম কয়েক বছর আগে তা ব্যবসায়ী মোজাম্মেলের কাছে বিক্রি করে যান। আর তিনি ওই জমিটি স্বাধীনতার আগে কিনেছিলেন নিলাম সূত্রে। তবে বর্তমানে এলাকায় না থাকায় নূরজাহান বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জমিটির আরেক অংশের বিক্রেতা বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, সেখানে তিনি আড়াই শতাংশ জমি ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেনের কাছে বিক্রি করেছেন। সেটি ভিন্ন দাগের। এ ছাড়া ওই আড়াই শতাংশ তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বানারীপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মোজাম্মেল ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নিজ নিজ পক্ষের কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভূমি অফিসের রেকর্ড দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।



মন্তব্য