kalerkantho


শেরপুরে শিশুর লাশ ঝুলছিল কাঁটাতারে

শেরপুর প্রতিনিধি   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শেরপুর শহরের সজবরখিলা এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুর লাশ ঝুলছিল পাশের বাড়ির সীমানার কাঁটাতারে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনার সময় শিশুর মা-বাবা বাড়ির বাইরে ছিলেন। রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ আটক করেছে দুজন প্রতিবেশীকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তাহমিদ হোসেন (৪) নামের শিশুটি শিক্ষক আব্দুল মালেক ওরফে রতন মাস্টার ও জহুরা পারভীন দম্পতির। গতকাল সকাল ৮টায় আব্দুল মালেক রতন চলে যান কর্মস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষিকা জহুরা পারভীন বাসা থেকে বের হন সকাল ১০টার দিকে। বড় ছেলে আপনকে স্থানীয় নবারুণ পাবলিক স্কুলে ভর্তি করাতে যান তিনি। এ সময় ছোট ছেলে তাহমিদ বাসার পাশে খোলা জায়গায় খেলা করছিল। এর কিছুক্ষণ পরই এলাকাবাসী দেখতে পায়, পাশের বাড়ির সীমানা চিহ্নিতকরণ কাঁটাতারে ঝুলছে শিশুটির লাশ। তখন শিশু তাহমিদের পরনের কাপড় ভেজা ছিল। পাশের এ বাড়িটি সাবেক সেনা সদস্য হেলাল উদ্দিনের। এলাকাবাসী খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। সংবাদ পেয়ে শিশুর মা-বাবা ফেরেন বাড়িতে। স্বজনরা ছুটে আসে বিভিন্ন স্থান থেকে। এ অবস্থায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খালিদ বিন নূর, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম, সদর থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ কর্মকর্তারা। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শিশুর রহস্যজনক এ মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাদের জন্য আটক করে প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী শিরিনা আক্তার (৪৫) ও ছেলে রিয়াজ উদ্দিনকে (১৩)।

শেরপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি এটি হত্যাকাণ্ড। শিক্ষক দম্পতির অনুপস্থিতিতে শিশুকে খুনের পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।’

এদিকে গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের সাতপাকিয়া গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষে ময়নাল উদ্দিন (৩০) নামের যুবক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে একটি জমি নিয়ে তর্কে একই গোষ্ঠীর দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ময়নাল গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। আহত অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।



মন্তব্য