kalerkantho


ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ঝটিকা মিছিল বিএনপির

আ. লীগ এখন ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে যাবে : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা থাকলেও গতকাল শনিবার অলিগলিতে ঝটিকা মিছিল ছাড়া বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ করতে দেখা যায়নি বিএনপিকে। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দলটি দাবি করেছে, রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতি থানায় বিক্ষোভ হয়েছে।

৫ জানুয়ারি রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে না পাওয়ায় গতকালের ওই বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছিল তারা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর ৫ জানুয়ারি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি।

তবে গতকাল সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাতে আওয়ামী লীগকে ভাঙা কলসি আখ্যায়িত করে তিনি বলেছেন, তারা অতিকায় ডাইনোসরে পরিণত হয়েছে, অতি শিগগির অবলুপ্ত হয়ে যাবে।

রিজভী আরো বলেন, “শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্য ‘ফাঁকা বুলি’। এ দিয়ে তিনি নিজের পদকে নিরাপদ করছেন। এসব কথা না বললে তো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও থাকা যাবে না, মন্ত্রীও থাকা যাবে না। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে এটা অনুধাবন করেই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা হুমকি আর ধমকের পথ অবলম্বন করেছেন, নানা মতলববাজি কথাবার্তা বলছেন।”

৫ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, মীর শরাফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে গতকাল রাজধানীর থানায় থানায় করা বিক্ষোভ কর্মসূচির বেশির ভাগ মিছিলই ছিল স্বল্পস্থায়ী। মূল সড়কে না করে অলিগলিতে এসব মিছিল করেছে তারা। ফলে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা চোখে পড়েনি।

মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাড্ডা থানায় একটি বিক্ষোভ মিছিল লিংক রোড থেকে শুরু হয়ে সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে এসে শেষ হয়। পল্লবী থানায় মিছিল হয়েছে কমিশনার মো. সাজ্জাদ ও বুলবুল মল্লিকের নেতৃত্বে। তেজগাঁও থানায় এল রহমানের নেতৃত্বে বিজয় সরণি সড়কে বিক্ষোভ মিছিল হয়। শেরেবাংলা নগর থানার মিছিলটি স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে শমরিতা হাসপাতালের সামনে গিয়ে পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল আনন্দ বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে শিশু মেলায় এসে শেষ হয়। রামপুরা থানা বিএনপির মিছিল হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান মিহিরের নেতৃত্বে। রূপনগর থানা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল রূপনগর আবাসিক এলাকা থেকে শুরু হয়ে দুয়ারীপাড়ায় গিয়ে শেষ হয়। বেপারী রোড থেকে শুরু হয়ে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয় উত্তরখান থানার মিছিলটি। পরে পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়। তা ছাড়া বিমানবন্দর থানা, উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, মিরপুর, দারুস সালাম, ভাষানটেক, দক্ষিণখান, তুরাগ, শ্যামপুর, খিলগাঁও, কলাবাগান, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, গেণ্ডারিয়া, বংশাল, সূত্রাপুর, ওয়ারী, ডেমরা, কোতোয়ালি, চকবাজার ও পল্টন থানায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

বিক্ষোভ মিছিল সফল হয়েছে দাবি করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণকে অধিকারহীন রাখা যাবে না—মঈন : সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণকে ‘অধিকারহীন’ করে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, মানুষের যে গণতান্ত্রিক অধিকার সেটা হচ্ছে ভোটের অধিকার। এটিই মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার সাংবিধানিক অধিকারের অনেক ওপরে।

গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের উদ্যোগে ‘সংকট উত্তরণের গ্রহণযোগ্য নির্বাচন : নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।



মন্তব্য