kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর খুনি পাশার মৃত্যু রহস্য আজও অনুদঘাটিত

ওমর ফারুক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবদুল আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে অবস্থান করছিলেন। প্রচার রয়েছে তিনি সেখানে মারা গেছেন। প্রকৃতই তিনি মারা গেছেন, নাকি মৃত্যু নাটক সাজানো হয়েছে তা জানতে উদ্যোগ নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগের আড়াই বছর পরও এখনো অনুদ্ঘাটিত রয়ে গেছে তাঁর মৃত্যুরহস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০১ সালের ২ জুন আজিজ পাশা বিদেশে মারা গেছেন বলে ২০০২ সালের ২৫ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। ওই সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। আজিজ পাশার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ওই বছরের মার্চে এ বিষয়ে জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আজিজ পাশার মৃত্যু-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র যাচাই করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দিতে অনুরোধ করা হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কিছুদিন পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করে জিম্বাবুয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। আড়াই বছর পার হলেও এ পর্যন্ত আজিজ পাশার  মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, সত্যিই আজিজ পাশার মৃত্যু হয়েছে কি না তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি জানতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলহত্যাকাণ্ডের পরদিন বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বিশেষ বিমানে করে রেঙ্গুন (বর্তমানে ইয়াঙ্গুন) হয়ে থ্যাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক চলে যান। সেখান থেকে পাকিস্তান সরকারের পাঠানো বিশেষ বিমানে করে তাঁদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়। ওই খুনিদের মধ্যে আবদুল আজিজ পাশাও ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ৮ জুন বঙ্গবন্ধুর ১২ খুনিকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়। আবদুল আজিজ পাশাকে দেওয়া হয় আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশ দূতাবাসে। পরে তাঁকে আলজেরিয়ায় বদলি করা হয়। এরপর জিম্বাবুয়েতেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমানকে নিয়োগ করা হয় ওই টাস্কফোর্সের সমন্বয়ক। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ওই টাস্কফোর্স অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে টাস্কফোর্স গঠনের পরই জিম্বাবুয়েতে অবস্থানরত আজিজ পাশাকে ফেরত পেতে ওই দেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন টাস্কফোর্সের সদস্যরা। মুগাবে বিশাল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পাশাকে ফেরত দিতে রাজি হন। বাংলাদেশ ওই বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁকে ফেরত আনতে সম্মত হয়নি।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সুসম্পর্ক ছিল। খুনিরা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করলেও বছরে একবার লিবিয়ার বেনগাজিতে মিলিত হতেন। আশির দশকে আবদুল আজিজ পাশা জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে যান। সেখান থেকে বেনগাজিতে গিয়ে অন্য খুনিদের সঙ্গে বৈঠক করতেন পাশা। চাকরি চলে যাওয়ার পর গাদ্দাফি অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন আজিজ পাশাকে। নব্বইয়ের দশকে গাদ্দাফির দেওয়া টাকায় ১০টি বাস কিনে হারারেতে পরিবহন ব্যবসা শুরু করেন আজিজ পাশা।

২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়। আরো ছয় খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন লে. কর্নেল (বরখাস্ত) নূর চৌধুরী, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন।



মন্তব্য