kalerkantho


রাজবাড়ী হবিগঞ্জ মাদারীপুর

তিন ছাত্রীকে ধর্ষণ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তিন ছাত্রীকে ধর্ষণ

রাজবাড়ী, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও মাদারীপুরে তিন ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজবাড়ী ও মাদারীপুরের ঘটনায় মামলা এবং রাজবাড়ীর ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। নবীগঞ্জ ও মাদারীপুরের ছাত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

রাজবাড়ী : সদর উপজেলায় নির্যাতিত তরুণী দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী (১৮) ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের মুজা সেখের ছেলে ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জাকির হোসেনের (২৫) বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

ওই ছাত্রী জানান, বেশ কিছুদিন আগে তাঁর সঙ্গে জাকিরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সূত্রে জাকির তাঁকে (ছাত্রী) বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। ছাত্রী বিয়ের কথা বললে জাকির টালবাহানা শুরু করে। এরই মধ্যে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান। তখন জাকির গোপনে ছাত্রীর ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। ছাত্রী ঘরে ঢুকতেই মুখ আটকে ধরে তাঁকে ধর্ষণ করে জাকির। তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি করেন। তাঁর চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা বউদি এগিয়ে এলে জাকির তাঁকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই জাহাঙ্গীর মাতব্বর বলেন, আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গতকাল দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়েছে।

হবিগঞ্জ : নবীগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকের নাম কাওছার মিয়া। সে একই উপজেলার এনাতাবাদ গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ওই কিশোরীর নানি জানান, কাওছার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। সম্প্রতি ওই কিশোরীর মা-বাবা কাওছারের অটোরিকশাযোগে সিলেট যান। এ সুবাদে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে কাওছার। প্রায়ই কাওছার কিশোরীদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করত। একপর্যায়ে সে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে। গত বুধবার সন্ধ্যায় কাওছার বেড়ানোর কথা বলে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে মেয়েটিকে বাংলাবাজার এলাকার এক বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি মেয়েটির বাবাকে জানালে তিনি মেয়েকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসক সাইফুর রহমান সোহাগ জানান, ধর্ষণের আলামত নিশ্চিত হতে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। নবীগঞ্জ থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুর : সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার মাদারীপুর সদর থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত জয় চক্রবর্তীকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী বিকেলে বাড়ির পাশে বাগানে খেলা করতে যায়। সন্ধ্যায় উত্তর দুধখালী গ্রামের মুদি দোকানি জয় শিশুটিকে চকোলেট দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। জয় পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে পুলিশে দেয়।

ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। মেয়ের মতো একটি ছোট শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে আমি ভাবতে পারছি না। সরকারের কাছে দাবি, ওর যেন কঠোর শাস্তি হয়।’ মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. শশাংক চন্দ্র বলেন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত একটি শিশু রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। গাইনি ডাক্তার শিশুটিকে দেখেছে। প্রাথমিকভাবে আলামত সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরে বোঝা যাবে প্রকৃত ঘটনা কী। মাদারীপুর মডেল থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘শিশুটির বাবা শুক্রবার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। যদিও অভিযুক্তকে আমরা ঘটনার পর পরই আটক করি।’



মন্তব্য