kalerkantho


জাতীয় দিবসে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

জান্তা প্রণীত সংবিধান সংশোধন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ডাক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুকে মিয়ানমার থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের শেষ সম্বলটুকুও। এমনই বাস্তবতায় দেশটিতে সামরিক জান্তাপ্রণীত সংবিধান নতুন করে লেখা এবং স্বীকৃত সব সংখ্যালঘুর জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় দিবসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ওই আহ্বান জানিয়েছেন। অবশ্য রোহিঙ্গারা আজও সংখ্যালঘু হিসেবে দেশটিতে স্বীকৃত নয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এমন একসময় সংবিধান সংস্কার ও সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচারের ডাক দিলেন, যখন দেশটির সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যের পাঁচ লাখেরও বেশি মুসলমানকে (রোহিঙ্গা) দেশের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট পদটি অনেকাংশেই আলংকারিক। প্রেসিডেন্টের চেয়ে সেখানে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেক বেশি। অনেকে বলছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার বিষয়ে দেশটির বক্তব্য কী হবে তা ঠিক করার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী প্রভাব খাটিয়েছে। সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠানোর ক্ষেত্রেও সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করেছে।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও গতকাল তাঁর বক্তব্যে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানালেও রোহিঙ্গাদের কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি। এমনকি রোহিঙ্গা নিপীড়ন বিষয়ে মিয়ানমারের বৈশ্বিক নিন্দার বিষয়েও কিছু বলেননি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সব নৃগোষ্ঠী, ন্যায়বিচার, সাম্য ও আত্মপরিচয়ের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর নীতির ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে আমরা কাজ করছি।’ দেশটিতে কয়েক দশক ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীকে সংঘাত ছাড়ারও আহ্বান জানান তিনি। কয়েক যুগ ধরে সামরিক জান্তা শাসিত মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও দেশটির নৃগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি মেলেনি। সংবিধান সংশোধন করে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা রাখার সুযোগ খর্ব করার ভাবনা দেশটিতে অন্যতম বহুল আলোচিত বিষয়। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির আইন উপদেষ্টা কো নি গত বছরের জানুয়ারিতে ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী তিন কিয়াও স্টেট কাউন্সেলর সু চির ঘনিষ্ঠ মিত্র। ১৯৬২ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিন কিয়াওই প্রথম প্রেসিডেন্ট যাঁর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। ২০০৮ সালে মিয়ানমারে সামরিক জান্তা প্রণীত সংবিধান কেন জুতসই নয় বা জুতসই সংবিধান প্রণয়নের ব্যাপারে তিনি কী বোঝাতে চাইছেন তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি।

তবে মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তনের উদ্যোগ মোটেও সহজ হবে না। সংবিধান সংশোধনের জন্য পার্লামেন্ট সদস্যদের ৭৬ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্ররা পার্লামেন্টে বেশ প্রভাবশালী। মিয়ানমারে সংবিধানে পার্লামেন্টের মোট আসনের এক-চতুর্থাংশ এবং প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী পদগুলো সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত আছে। এগুলো নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়ন্ত্রণ ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীকে কার্যত ‘ভেটো’ ক্ষমতা দিয়েছে।

জান্তা সরকার প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, স্বামী বা সন্তানরা বিদেশি হলে কেউ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। সু চির প্রয়াত স্বামী ও সন্তানরা বিদেশি হওয়া তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বড় বাধা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আগামী সপ্তাহে তথ্য সংগ্রহ শুরু : রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আগামী সপ্তাহে তাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালামের বরাত দিয়ে রেডিও ফ্রি এশিয়া এ তথ্য জানায়।



মন্তব্য