kalerkantho


মাদক কারবারিকে দেখামাত্র গুলির পরামর্শ

মন্ত্রীর বক্তব্যে আসকের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল বুধবার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মাদক নির্মূলে ‘মাদকের সঙ্গে যুক্তদের ধরে ধরে গুলি করাই একমাত্র সমাধান হতে পারে’—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের এমন আইন ও মানবাধিকারের মূলনীতির পরিপন্থী বক্তব্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কেননা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না বরং এ ধরনের ঘটনা আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রকে আরো বেশি প্রস্তুত করে। বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনসমূহে মানুষের জীবনধারণের অধিকারের ও বিচারের আওতায় আসার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। এ ছাড়া ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচার লাভের অধিকার থাকার পরও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর এ রকম মন্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে।”

আসকের এই বিবৃতির ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ২ জানুয়ারি ডিএনসির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মাদক নির্মূলে জাতীয় সংলাপের কথা বলেন। এরপর মাদক যদি এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়, তবে সবার মতামত দিতে বলেন। পরে চিহ্নিতদের ভালো হওয়ার জন্য সময় দিতে বলেন। আর এতেও কাজ না হলে প্রয়োজেন ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ (দেখামাত্র গুলি) করতে হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দু-একটি ঘটনা ঘটলে মাদক কারবারিরা ভয় পেয়ে যাবে।



মন্তব্য