kalerkantho


আসামে ‘বাঙালি খেদাও’ নিয়ে হুঁশিয়ারি মমতার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের আসাম রাজ্যের হালনাগাদ ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)’ তালিকার সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আসামের ওই তালিকা প্রণয়নের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের ওপরও পড়তে পারে। বাঙালিদের আসাম থেকে তাড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তাদের নাম তালিকায় নেই। আগুন নিয়ে খেলবেন না।’

গত রবিবার রাতে এনআরসির প্রথম খসড়ায় আসামের তিন কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে এক কোটি ৩৯ লাখের নামই বাদ পড়েছে। তাদের আবেদনগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পূর্বপুরুষদের নাম ১৯৫১ সালের এনআরসিতে বা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগের কোনো ভোটার তালিকায় ছিল।

এনডিটিভির অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না। বিভাজন সৃষ্টি করে শাসন করার চেষ্টা করবেন না। আসামে সমস্যা হলে বাংলায় (পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে) সমস্যা হবে। আমরা প্রতিবেশী রাজ্য। বাংলায় আসাম, কেরালার লোকজন থাকছে। এখানে কোনো সমস্যা নেই। আসামে যে বাঙালিরা আছে তাদেরও দেখভাল করা উচিত। আমরা বিভাজনের রাজনীতিকে সমর্থন করি না। আমরা জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টার বিরোধী।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত মাসে রাজস্থানে মালদহর এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি ইঙ্গিত করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের লোকজন অন্য রাজ্যে কাজ করছে এবং সেখানের নাগরিক হয়েছে। এটি একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু নাগরিক নিবন্ধনের নামে বিজেপি জনগণকে হয়রানি করছে। এনসিআরের প্রথম খসড়ায় নাম না দেখে ইতিমধ্যে একজন আত্মহত্যা করেছেন।’

এদিকে ভারতের আসাম রাজ্যে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত ও বিতাড়নের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা প্রকাশকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি রাখছে বাংলাদেশ। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখনো ভারতের অভ্যন্তরীণ।


মন্তব্য