kalerkantho


শিশুদের রোগ ‘কাওয়াসাকি’ বাংলাদেশেও

তৌফিক মারুফ   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের পর এবার বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে শিশুদের ‘জাপানি রোগ’ বলে পরিচিত কাওয়াসাকি। রোগটি বিশ্বের অনেক দেশে পুরনো হলেও বাংলাদেশে এটিকে নতুন হিসেবেই বিবেচনা করছেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই এতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। রোগটি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেলে কিছু চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রোগীকে ভালো করা যাচ্ছে; তাই আতঙ্কিত না হয়ে বরং সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জ্বর, গায়ে র‍্যাশ, গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া, হাত-পায়ের চামড়া ওঠার মতো লক্ষণ দিয়ে রোগটি শুরু হলেও সময়মতো ধরতে না পারলে হৃদযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করে। তবে এটি ছোঁয়াচে কোনো রোগ নয়, একজনের হলে অন্যের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা নেই। অবশ্য কোনো কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ রোগের বিষয়ে এখনো মুখ খুলতে চায় না। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। তবে সরকারের কাছে এখনো এ রোগের ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্র।

আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো এ রোগের ব্যাপারে কেউ রিপোর্ট করেনি। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। থাকলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গত সোমবার ১০ বছরের এক শিশুকে জ্বরের সঙ্গে আরো কিছু উপসর্গ এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে ভর্তি করা হয় রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। তাকে এখন আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা শিশুটির রোগকে কাওয়াসাকি ডিজিজ বলে শনাক্ত করলেও কালের কণ্ঠ’র কাছে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু জানাতে রাজি হয়নি। তবে শিশুটির বাবা নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন,  প্রথম পাঁচ-ছয় দিন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও তাঁর সন্তানের কী রোগ হয়েছে তা শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে চিকিৎসকরা তাঁকে রোগটি কাওয়াসাকি বলে জানিয়েছেন এবং চিকিৎসা শুরু করেছেন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কাওয়াসাকি ডিজিজ নিয়ে প্রচার কম থাকায় অনেকেই রোগটি সম্পর্কে জানে না। এমনকি অনেক চিকিৎসকও রোগটি শনাক্ত করতে পারেন না। তবে আমরা কিছুদিন আগে থেকেই এ রোগে আক্রান্ত অনেক শিশুকে পাচ্ছি এবং চিকিৎসাও দিচ্ছি। এটি নিয়ে লুকোছাপার কিছু নেই, বরং এই রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। যাতে এটি নিয়ে আতঙ্ক না থাকে।’ এই শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, রোগটি জটিল হলেও আতঙ্কিত হলে চলবে না। বরং সাধারণ মানুষসহ চিকিৎসকদেরও এ রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৯৬৭ সালে জাপানের টোমিসাকু কাওয়াসাকি নামের একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সর্বপ্রথম একটি চিকিৎসাবিষয়ক প্রবন্ধে ‘মিউকোকিউটেনিয়াস লিম্ফ নোড সিনড্রোম’ বলে একটি বিশেষ রোগের কথা উল্লেখ করেন। পরে রোগটির নামকরণ হয় তাঁর নামে—‘কাওয়াসাকি ডিজিজ’। গত বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এ রোগের ব্যাপক প্রকোপ দেখা দেয়। এবারও ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই রোগ দেখা দিয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।


মন্তব্য