kalerkantho


দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত উত্তরে তীব্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দেশজুড়ে শীত বেশ জেঁকে বসেছে। রাজধানী ঢাকার সকালটা ঢেকে থাকছে কুয়াশায়। তবে শীতের তীব্রতাটা উত্তরে অনেক বেশি। এ কারণে স্থানীয় জনজীবন বেশ পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। কুয়াশার ফলে রাস্তায় বিকেলেও হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলছে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলছে ধীরগতিতে।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এ কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবীসহ নদীপারের মানুষের কাছে এ শীত দুর্ভোগ নিয়ে হাজির হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় ক্ষেতমজুররা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। গতকাল বুধবার রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার ওপর আজ বৃহস্পতিবার এ এলাকা দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

নওগাঁ থেকে প্রতিনিধি জানান, কয়েক দিন ধরে নওগাঁয় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তীব্র এ শীতে উত্তরের হিমেল হাওয়া যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। জরুরি কাজকর্ম ছাড়া ঘরের বাইরে যাচ্ছে না তেমন কেউ। কর্মজীবী মানুষের দুর্দশার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। জীবিকার তাগিদে তাদের শ্রম বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ব্যাপকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট বেড়েছে। এদিকে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। বৃদ্ধ ও শিশুরা ভুগছে সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রোগে।

রংপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে রংপুর অঞ্চলে শীতের দাপট শুরু হয়েছে। রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশাঝড়ে মাঠ-ঘাট-প্রান্তর ভিজে যায়। হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের আট জেলার মানুষ। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ শীতে বেশ পর্যুদস্ত। ঘন কুয়াশার কারণে রংপুরে যানবাহনগুলো দুপুর পর্যন্ত হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। শীতে অভাবী মানুষজনের জীবন বাঁচানো দায় হয়ে পড়েছে।

তিস্তাপারের ধামুর এলাকার সত্তর বছরের সৈয়দ আলী বলেন, ‘নদীপারের ঝুপড়ি ঘরোত হু হু করি বাতাস ঢোকে। ঠাণ্ডায় সারা রাইত নিদ ধরে না।’ একই এলাকার শহর বানু ও মজিদা বেগম বলেন, ‘মাঘের জারে বাঘ কাঁন্দে সবায় কয়, তয় এবার আগেভাগেই ঠাণ্ডা শুরু হইলো। হামার কাঁন্দন কাইও দ্যাকে না।’


মন্তব্য