kalerkantho


সেফটি অ্যান্ড রাইটের জরিপ

আইনি দুর্বলতায় কর্মস্থলে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আইনি দুর্বলতায় কর্মস্থলে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

কর্মস্থলে শ্রমিকের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও কোনো দুর্ঘটনার জন্য তাদের শাস্তি হয় না। এমনকি ন্যায্য ক্ষতিপূরণও পায় না নিহত ও আহত শ্রমিকের স্বজনরা। অন্যদিকে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তার কথা বলে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংগঠনের সহায়তা আনা হলেও সেই অর্থ শ্রমিকের নিরাপত্তার কাজে লাগানো হয় না। বরং ব্যবসাকে নিরাপদ করা হয়।

গত এক বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ওপর চালানো জরিপের ফল প্রকাশের জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা বলেছেন, আইনি দুর্বলতার কারণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না বলে প্রতিবছর কর্মস্থলে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বক্তারা বলেন, ক্ষতিপূরণ কিছুটা দেওয়া হলেও তা যেন অনেকটা ভিক্ষার চাল। এ দিয়ে কোনো রকম মিলাদ-মাহফিল পড়ানো যায়।

শ্রমবিষয়ক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেফটি অ্যান্ড রাইট সোসাইটি (এসআরএস) এই জরিপ চালিয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এসআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় গত বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ৪২৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। মোট ৩২১টি দুর্ঘটনায় এসব শ্রমিক মারা যায়। এর আগের বছর ২০১৬ সালে ২৫৮টি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মোট ৩৮২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিল। অর্থাৎ ২০১৬ সালের চেয়ে গত বছর ৪৪ জন বেশি মারা গেছে।

গত এক বছরে দেশে প্রকাশিত ২৬টি দৈনিক সংবাদপত্র (১৫টি জাতীয় ও ১১টি স্থানীয়) পর্যবেক্ষণ করে এ জরিপ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে এসআরএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি ১৪৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এ সংখ্যা মোট নিহত শ্রমিকের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এর পরেই পরিবহন খাতে ১০২ জন বা ২৪ শতাংশ। আর ৯৬ জন মারা যায় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে (যেমন—হোটেল, ওয়ার্কশপ, বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি)। এ ছাড়া কলকারখানা ও অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে ৭৬ জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এ সময় আটজন কৃষি শ্রমিকও নিহত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি খুশী কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন প্রমুখ।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সেফটি অ্যান্ড রাইটসের নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা। তিনি বলেন, নিহত শ্রমিকের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। কেননা অনেক দুর্ঘটনার সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় না এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর বিষয়টিও সব ক্ষেত্রে প্রকাশিত হয় না।


মন্তব্য