kalerkantho


গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল হস্তান্তর

পরীক্ষার সময় কমানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



পরীক্ষার সময় কমানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গতকাল গণভবনে ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দেশকে আগামী দিনে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় যে পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে, এর প্রশংসা করে পুরো পরীক্ষা শেষ করার সময় কমিয়ে আনার কথা ভাবতে বলেছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষার ফলের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। কারিগরি এবং মাদরাসাসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ফল একে একে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, এখন পরীক্ষা শেষ করতে যে রকম প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়, তা কমিয়ে আনতে পারলে শিক্ষার্থীদের যেমন আরো বেশি মনোযোগী করা যাবে, পরীক্ষা নিয়ে গুজব আর অপপ্রচারের হাত থেকেও মুক্তি মিলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বদনাম হতো প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্নপত্র ফাঁস সমস্যাটা কিন্তু শুধু আমাদের দেশে না, অনেক উন্নত দেশেও এটা দেখা যাচ্ছে। কারণ ডিজিটাল হওয়াতে—ডিজিটালের যেমন সুফল আছে, মাঝেমধ্যে কিছু কুফলও এসে যায়। খুব তাড়াতাড়ি সেটা প্রচার হয়ে যায়।’

এবার এইচএসসিতে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ না ওঠায় সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এবার যে পদ্ধতিটা নেওয়া হয়েছে, সেটা খুবই চমৎকার। আধাঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীরা চলে যাবে পরীক্ষার হলে। ২৫ মিনিট আগে জানানো হবে, কয়েকটা সেটের প্রশ্নপত্র থাকে, কোন সেটটা দেওয়া হবে। এর ফলে নকল বন্ধ হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়েরা একটু পড়াশোনা করলেই যেখানে ভালো রেজাল্ট করতে পারে, সেখানে তারা নকল করবে কেন?’

এবার পরীক্ষা শেষ করার পর ৫৫ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে পারায় শিক্ষক এবং শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।’ আর যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের মনোবল না হারাতে এবং পরবর্তী পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়লে কৃতকার্য হবে। নিজের ইচ্ছায় পড়তে হবে।’ অভিভাবকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার পরামর্শ, ‘ছেলে-মেয়েদের বকাঝকা করবেন না। কেন খারাপ করল, তা খুঁজে বের করুন।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার চেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটা কথা বলব আমাদের ছেলে-মেয়েদের, একটা সম্পদ শিক্ষা, এই সম্পদটা কেউ কখনো কেড়ে নিতে পারবে না। ছিনতাইকারী কখনো নিতে পারবে না, চুরি-ডাকাতি করেও নিতে পারবে না। শিক্ষা হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। কাজেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে তবেই নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদক থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার জন্য সতর্ক করে দিয়ে এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। সূত্র : বাসস।



মন্তব্য