kalerkantho


ঢাকা-ভৈরব-ময়মনসিংহ সড়ক

রাত নামলেই রাস্তা ডাকাতের দখলে

নাসরুল আনোয়ার, হাওরাঞ্চল   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভৈরব বাজার থেকে কিশোরগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহের দিকে চলে যাওয়া সড়কটি আন্ত জেলা সড়ক হিসেবে পরিচিত। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে এ সড়ক দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। রাত নামলেই এ সড়কে বাড়ছে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য; চলছে ডাকাতি, লুট। প্রায় প্রতিরাতেই কোথাও না কোথাও ডাকাতের কবলে পড়ে সর্বস্ব খোয়াচ্ছে যাত্রীরা।

বিশেষ করে ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ থেকে কুলিয়ারচরের নোয়াগাঁও-ছয়সূতি; দ্বারিয়াকান্দি থেকে বাজরার মাঝামাঝি আলী আকবরী অঞ্চলটি সশস্ত্র ডাকাতদের দখলে। ঢাকা-ভৈরব-ময়মনসিংহ আন্ত জেলা সড়কে চলাচলকারী জ্বালানিবাহী ট্যাংকলরি, মালবাহী ট্রাকে ডাকাতি হচ্ছে হরহামেশা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতে পর্যাপ্ত পুলিশি টহল থাকে না। মাঝে মধ্যে পুলিশের গাড়ি চোখে পড়লেও ঘটনার সময় তারা দূরে অবস্থান করে।

সর্বশেষ গত বছর ২৭ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার আলী আকবরী গ্রামের সামনে যানবাহনে গণডাকাতি হয়েছে। ওই রাতে সশস্ত্র ডাকাতদল রাস্তার পাশের গাছ কেটে ব্যারিকেড দিয়ে অন্তত ৩০-৩৫টি গাড়িতে ডাকাতি করেছে। লুটে নিয়েছে নগদ টাকাসহ কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার মালামাল।

কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. নান্নু মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকাটি এমনিতেই চোর-ডাকাতে ভরা। নরসিংদীর রায়পুরা, বেলাব ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে এসেও ডাকাতরা ডাকাতি করে চলে যায়। আমার থানার সীমানায় টহল পুলিশের দুটি গাড়ি সারা রাত দায়িত্ব পালন করে। কুয়াশার কারণে অনেক সময় দূর থেকে কিছু দেখা যায় না। এলাকার চিহ্নিত ডাকাতদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’ 

কিশোরগঞ্জের ব্যবসায়ী সুরমান আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, বুধবার গভীর রাতে তিনি হাইয়েস গাড়িতে গ্যাস পুরে ভৈরব থেকে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে কুলিয়ারচরের আলী আকবরী গ্রামের কাছাকাছি আসেন। সামনেই সিলেট থেকে ময়মনসিংহগামী যাত্রীবাহী বাসসহ বেশ কিছু গাড়ি আটক দেখতে পান। রাস্তার মাঝামাঝি ব্যারিকেড দিয়ে রাখা গাছ চোখে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাস্তার দুদিক থেকে ১৫-২০ জন সশস্ত্র মুখোশপরা যুবক গাড়ির কাচ ভাঙতে শুরু করে। এরপর গাড়ির ভেতরে ব্যাগে রাখা নগদ তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ওই ঘটনায় ডাকাতদের হাতে নগদ সাড়ে ১১ হাজার টাকা খোয়ান গাড়িচালক মো. রাকিব হাসানও। তিনি জানান, অনুমানিক পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতির একপর্যায়ে যাত্রীবাহী বাসে থাকা এক পুলিশ সদস্য স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাটি জানানোর পর পুলিশ এসে দূর থেকে বাঁশি ফোঁকে। ততক্ষণে ডাকাতরা ডাকাতি করে কেটে পড়ে।

সিলেট থেকে খুলনা অঞ্চলে জ্বালানি পরিবহনে নিয়োজিত শ্রীমঙ্গলের মো. শামসুদ্দিন (৬২) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভৈরবের পর থেকেই ডাকাতদের ভয়ে বুক কাঁপতে থাকে। আমাদের কাছে তো আর তেলের টাকা থাকে না। কিন্তু ডাকাতরা খরচের টাকাসহ যা পায় সব নিয়ে যায়। সব সময়ই এখানে চোর-ডাকাতের ভয় থাকে। কিন্তু ইদানীং ওদের তত্পরতা বেড়ে গেছে।’ 

ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সিএনজি অটোচালকরা জানায়, রাত নামতেই ডাকাতরা রাস্তার একপ্রকার ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে নেয়। গত দুই-তিন মাসে এ সড়কে ৫০টির বেশি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

অটোচালক মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘সন্ধ্যার পর নোয়াগাঁও-ছয়সূতি এলাকাটা পার হওনের সময় আল্লাহর নাম লইতে লইতে যাই।’ 

ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসির দায়িত্ব পালনরত এসআই আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘এ রাস্তায় হাইওয়ে পুলিশের তিনটি টহলদলসহ প্রতিটি থানার পুলিশের টহল রয়েছে। কুয়াশার কারণে ও টহল পুলিশ ঘুরে আসার সুযোগে মাঝে মধ্যে ডাকাতি হয়। স্থানীয় থানাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ডাকাতি রোধে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।’



মন্তব্য