kalerkantho


মির্জা ফখরুল বললেন

বিএনপিকে বাদ দিয়ে সরকার নির্বাচনের চক্রান্ত করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সরকার বিএনপিকে বাদ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নির্ধারিত ছাত্র সমাবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়টি জানাতে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

ফখরুল বলেন, সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চক্রান্ত করছে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যেন সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, তার জন্য যে পরিবেশ তৈরি করা, তার জন্য যে গ্রাউন্ড তৈরি করা, সেটা সরকার করছে না। তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো যেন সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এমন একটাও জেলা নেই, উপজেলা নেই, যেখানে বেধড়ক গ্রেপ্তার চলছে না। এটা নতুন শুরু হয়েছে। এই গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা এক মাস ধরে করা হচ্ছে। এটা খুব পরিষ্কার, বর্তমান সরকার যারা নিজেরা ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তারা সামনে যে নির্বাচন আসছে, সেই নির্বাচনে বিএনপি বা বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ করুক, তা চায় না। এ জন্যই এ ধরনের একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে বিরোধী দলগুলো সুযোগ না পায়। কারণ সরকার ভালো করে জানে, যেসব জরিপ হয়েছে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে তারা জয় লাভ করতে পারবে না।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের দাবি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে, জনগণের অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সবাইকে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাধ্য করতে হবে এই সরকারকে সরিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

কুমিল্লায় একটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যারের দাবি জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও নেওয়া হয়েছিল। সকালে ছাত্রদলের নেতারা মঞ্চ নির্মাণের জন্য গেলে প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এক মাস আগে এই অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। হঠাৎ এভাবে অনুষ্ঠান করতে না দেওয়া, গড়িমসি করা পরিষ্কারভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল।



মন্তব্য