kalerkantho


পদ্মার ডান তীর রক্ষার উদ্যোগ ৯ জেলার চরে বনায়ন হবে

একনেকে ১৬ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রাম বিভাগের ৯ জেলার ৬৭ উপজেলায় জেগে ওঠা চরে বনায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা নতুন চরসহ উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন’ শিরোনামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২৫ হাজার হেক্টর এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হবে। সভায় শরীয়তপুরের ভাঙনকবলিত জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষায় অন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে এক হাজার ৯৭ কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, একনেকে ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২২১ কোটি। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া যাবে ৪৬৩ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ১৩ কোটি টাকা খরচ হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পরিকল্পনাসচিব জিয়াউল ইসলাম, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মফিজুল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বিদ্যুতের প্রি-পেমেন্ট মিটারিংসংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় দেশেই প্রি-পেইড মিটার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাতে বিদেশ থেকে প্রি-পেইড আমদানি করতে না হয়। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরের জেগে ওঠা নতুন চরে বনায়নের সময় অন্যান্য গাছের সঙ্গে নিম, বিভিন্ন ফলের গাছ এবং বটগাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যাতে পাখির খাদ্যের জোগান সৃষ্টি হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নদীগুলো যদি ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হয় তাহলে অর্থনৈতিক কাজে লাগবে। আমরা সে পথেই এগোচ্ছি।’ মন্ত্রী জানান, ডিপিডিসির বিদ্যুৎ বিতরণসংক্রান্ত একটি অনুমোদিত প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, যেখানে মাটির নিচে লাইন নেওয়ার সুযোগ আছে সেখানে মাটির নিচেই নিতে হবে। আর যেখানে বাড়ি আছে বা মাটির নিচে নেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে মাটির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নিতে হবে।

সভায় দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ১৫৭ কোটি টাকা এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকা ঋণ হিসেবে দেবে ৬২০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য উদ্ধার সরঞ্জামাদি কেনা হবে। যার মধ্যে রয়েছে তিনটি মোটরযান, ১৫টি ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট, রেডিও ও ফায়ার ফাইটিং যন্ত্রপাতি। এ ছাড়া দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ও কার্যকরী পুনর্বাসন কাজের স্বার্থে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, সেতুসহ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

সভায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মৃত্তিকা গবেষণা ও গবেষণা সুবিধা জোরদারকরণ (এসআরএসআরএফ) শিরোনামের আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সম্প্রতি দেশের কিছু কিছু এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে ১৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলায় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন, ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মৃত্তিকা গবেষণা ও গবেষণা সুবিধা জোরদারকরণ, ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল এভিয়ারি ও ইকো পার্ক (দ্বিতীয় পর্যায়), ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তি বাড়ানো, ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের পারকি ও পতেঙ্গায় পর্যটন সুবিধা বাড়ানো এবং ৪২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির এলাকার জন্য স্মার্ট-প্রি পেমেন্ট মিটারিং প্রকল্প।



মন্তব্য