kalerkantho


আপন জুয়েলার্স

তিন ভাইয়ের জামিন স্থগিতের মেয়াদ বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম এবং তাঁর দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের একটি করে মামলায় হাইকোর্টের জামিনের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ বেড়েছে। আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ওই তারিখে পরবর্তী শুনানি হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আপন জুয়েলার্সের তিন ভাইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন।

হাইকোর্ট গত ১৪ ডিসেম্বর তিন ভাইকে পৃথক তিনটি মামলায় জামিন দেন। এ ছাড়া দিলদার আহমেদ সেলিমের বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলায় (উত্তরা ও ধানমণ্ডি থানায় করা মামলা) আদেশ প্রদান এক মাসের জন্য মুলতবি রাখতে বলেন। এ অবস্থায় জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন করে। আপিল বিভাগ ১৮ ডিসেম্বর এক আদেশে জামিন স্থগিত করেন।

হাইকোর্ট গত ২২ নভেম্বর তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডি, উত্তরা ও রমনা থানায় মানি লন্ডারিং আইনে করা পৃথক পাঁচটি মামলায় কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন। এরপর ১৪ ডিসেম্বর দিলদার হোসেনকে রমনা থানায় এবং অন্য দুই ভাইকে গুলশান থানার মামলায় জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে উত্তরা ও ধানমণ্ডি থানার মামলায় আদেশ প্রদান মুলতবি রাখতে বলা হয়।

রেইনট্রি হোটেলে গত ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় মামলা হয়। পরে ৪ জুন শুল্ক বিভাগ আপন জুয়েলার্সের ডিএনসিসি মার্কেট, উত্তরা, মৌচাক, সীমান্ত স্কয়ার ও সুবাস্তু ইনম শাখা থেকে প্রায় ১৫ মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড জব্দ করার পর তা রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এরপর দিলদার আহমেদ সেলিম এবং তাঁর দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক পাঁচটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এসব মামলায় গত ২২ আগস্ট তিনজনকেই চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরপর তাঁদের নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তাঁরা হাজিরা দেননি। এ কারণে ২৩ অক্টোবর তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরদিন ২৪ অক্টোবর তাঁরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। কিন্তু আদালত তাঁদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে তাঁরা কারাবন্দি।


মন্তব্য