kalerkantho


ধর্ষণের লজ্জায় কিশোরীর আত্মহত্যা

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অগ্রগতি নেই

বরিশাল অফিস   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রতিবেশী আত্মীয়ের ঘরে ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে কিশোরী সোনিয়া আক্তার (১৪)। গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাঁচ দিন পর গত সোমবার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে। বাকেরগঞ্জ চরাদি ইউনিয়নের হালতা গ্রামের এ মর্মস্পর্শী ঘটনায় গতকাল রাতে চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে ঘটনার পরপরই। সোনিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের পর গতকাল পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি এস এম মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘সোনিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে তাত্ক্ষণিক কেউ কিছু জানাননি। লোকমুখে শুনে পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনা জেনেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া এখনই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে কিছু একটা না হলে মেয়েটি আত্মহত্যা করবে কেন?’

স্বজনরা জানায়, হালতা গ্রামের দুলাল খানের মেয়ে সোনিয়া চরাদি শেরেবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাড়ি স্থানীয়ভাবে খানবাড়ী নামে পরিচিত। একই বংশের প্রতিবেশী পান্নু খানের ছেলে আসাদ খান এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত। চাচা সম্পর্কীয় আসাদ গত বুধবার সোনিয়াকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। মৃত্যুর আগে দেওয়া সোনিয়ার জবানবন্দি ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছে আসাদ, তার ভাই আরিফ ও আরেক যুবক ধর্ষণ ঘটনায় জড়িত। তবে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সোনিয়ার ছোট ভাই মারুফ খান ও সহপাঠী চাঁদনী আক্তার মনু ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিল। তাদের দেওয়া বর্ণনা অনুসারে, বুধবার সকালে সোনিয়া উঠানে বসে থাকা অবস্থায় ডিম ভেজে দেওয়ার কথা বলে আসাদ তাকে ডেকে নেয়। তখন এ বাড়ির অনেক শিশু উঠানে খেলছিল। সকাল ১১টার দিকে আসাদের ঘর থেকে চিৎকার শুনে এগিয়ে যায় মারুফসহ অন্যরা। আসাদের ভাই আরিফ তাদের ধাওয়া করে। সহপাঠী চাঁদনী ঘরে ঢুকে কান্নারত অবস্থায় সোনিয়াকে দেখতে পায় এবং খাবার টেবিলের নিচ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। সোনিয়া কাঁদতে কাঁদতে নিজের ঘরে ছুটে যায় এবং দরজা আটকে দেয়।

চাঁদনীর বক্তব্য, ‘সোনিয়া নিজের ঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ধোঁয়া বের হতে থাকে। একপর্যায়ে সোনিয়ার চিৎকার ও পোড়া গন্ধ পেয়ে ঘটনা বোঝা যায়। তখন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বাড়ির উপস্থিত সবাই পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে ফেলে।’

বড় বোন সুরাইয়া আক্তার জানায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ছোট ভাই মারুফসহ সোনিয়া ছিল। বাবা অফিসে ও মা পাশের এক বাড়িতে গিয়েছিলেন। মেজ ভাই ফয়সাল ও সুরাইয়া গিয়েছিল স্কুলে। সংবাদ পেয়ে সবাই ফিরে সোনিয়াকে নেওয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে সোনিয়ার মৃত্যু ঘটে।

মা শিউলি বেগম বলেন, ‘আসাদ ও আরিফকে ছেলে-মেয়েরা চাচার মতোই শ্রদ্ধা করেছে। তাদের পরিবারে সঙ্গে কখনো বিবাদ হয়নি। সোনিয়া মারা যাওয়ার আগে ডাক্তার ও আমাদের সব কিছু্্ই বলে গেছে। ঘটনার সময়ে আসাদ, আরিফ ও আরো একজন ছিল। তাদের কঠিন বিচার চাই।’

বাবা দুলাল খান বলেন, ‘মেয়ে বাঁচানোর জন্য সবাইকে নিয়ে ঢাকায় ছিলাম। থানায় মামলা কিংবা পুলিশকে সংবাদ জানাতে পারিনি। এখন মেয়েকে তো বাঁচাতে পারলাম না।’ অভিযুক্ত আসাদের পরিবার থেকে মামলা না করার জন্য হুমকি ও প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন খান বলেন, ‘সাবেক সেনা সদস্য পান্নু খানের দুই ছেলে আসাদ ও আরিফ বখাটে হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত আসাদ ১২ তারিখে সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে বলে শুনেছি।’



মন্তব্য