kalerkantho


জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এরশাদ

আ. লীগকে তিনবার ক্ষমতায় এনেছি, পাইনি কিছুই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় পার্টির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তৃতায় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অতীতে তাঁর দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ে অবিচার করেছে বলে ক্ষোভ ঝেরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ তিনবার আমাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় এসেছে। বিনিময়ে কিছুই পাইনি।’ বিএনপি প্রসঙ্গে বলেন, ‘সীমাহীন অত্যাচারের মাধ্যমে বিএনপি আমাদের নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল। আল্লাহ আছেন, বিচার আছে। আমাকে এবং আমার পরিবারকে বিনা দোষে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন। আজ কারাগার আপনার (খালেদা জিয়া) অতি সন্নিকটে।’

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় এরশাদ বলেন, ‘১৯৯৬ সালে বিএনপির দেওয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে তারা আমার দলের মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে দল ভাঙাল, আমাদের ১৪ জন এমপিকে কিনে নিল। আমাকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানাসহ নির্বাচনে অযোগ্য করা হলো। ২০০৮ সালে মহাজোট করা হলো। কথা ছিল ৪৮টি আসন দিবে, কিন্তু দেওয়া হলো মাত্র ৩৩টি। জয়ী হলাম ২৯টিতে। বিএনপি পেল ৩০টি। আমাদের কাছ থেকে যদি সেই ১৭টি আসন কেড়ে না নিত তাহলে আমরা তখনই প্রধান বিরোধী দল হই। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা হতে দিল না। আর ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি যদি নির্বাচনে না যেত তাহলে হয়তো বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।’

আলোচনাসভা শেষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর থানা এবং ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জাপার নেতাকর্মীরা জড়ো  হতে থাকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর-কদমতলী থেকে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে মত্স্য ভবনের সামনে এলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপির অনুসারী নেতাকর্মীরাও বিশাল মিছিল নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় জাতীয় ছাত্রসমাজ, জাতীয় যুব সংহতি ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, কৃষক পার্টি, মহিলা পার্টির নেতাকর্মীরা ছিল। দুপুর ১টায় শোভাযাত্রাটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে শুরু হয়ে মত্স্য ভবন, প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, বিজয়নগর হয়ে কাকরাইলের পার্টি অফিসে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রার আগে আলোচনাসভায় এরশাদ আরো বলেন, ‘মানুষের মাঝে প্রতিনিয়ত খুন আর গুমের ভীতি, অস্থির রাজনীতি। কিন্তু আমাদের মাঝে আর হতাশা নেই। বিজয়ের মাসে রংপুরে অভূতপূর্ব বিজয় প্রমাণ করেছে জাতীয় পার্টি আছে এবং থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপ্রধান হতে চাইনি। তত্কালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে সাত্তার সাহেবের অনুরোধে ক্ষমতা নিয়েছিলাম। এর পরই নির্বাচন দিয়েছিলাম। কেউ আসলেন না। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারিতে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করে সামরিক শাসন বিলুপ্ত করি। তার চার মাস পর নির্বাচন হলো। সে নির্বাচনে আওয়ালী লীগ, জামায়াত, সিপিবি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ২৮টি দল অংশ নিল। চার মাসের এই দল ১৭৪টি আসন পেয়ে জয়ী হলো।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শাসনামলকে কেউ অবৈধ বলতে পারবে না। কারণ, হাইকোর্ট ১৯৮৬ সাল থেকে জাতীয় পার্টির শাসনামল বৈধ ঘোষণা করেছেন।’

সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছি। আমার হাতে রক্তের দাগ নেই। ডা. মিলনকে কে হত্যা করেছে আমি জানি না। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারও করা হলো না। নূর হোসেনকে পেছন থেকে গুলি করা হলো, তার হত্যারও বিচার কোনো সরকার করল না। আমি ক্ষমতায় আসতে পারলে এই বিচার করে প্রমাণ করব এই হত্যার পেছনে কারা দায়ী।’

নিজ দলের উত্তারাধিকারী প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত দেব। যদি কোনো কারণে আমি ঘোষণা না করে যেতে পারি, তাহলে প্রেসিডিয়াম সিদ্ধান্ত নেবে কে হবে জাপার ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান।’ সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, জনগণ এখন সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। জাতীয় পার্টিও চায়। রংপুরে এর প্রতিফলন ঘটেছে।

আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, এস এম ফয়সল চিশতী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান, সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা জহিরুল আলম রুবেল, নাসির উদ্দিন মামুন, এ কে এম আশরাফুজ্জামান খান প্রমুখ।



মন্তব্য